
লামার আলো ডেস্ক:-
বাংলা পঞ্জিকা ও আমাদের জীবন থেকে খসে গেল আরো একটি বসন্ত। ১লা বৈশাখ-১৪৩১ বঙ্গাব্দ এর আগমন ঘটে নানান উৎসবের মধ্যদিয়ে। বাঙালীর চিরায়ত উৎসবের মধ্যে ১লা বৈশাখ হচ্ছে প্রাণের মেলা। বটতলার হাটখোলায় তালপাতার বাঁশি মাটির পুতুল, হাতি গোড়া নানান খেলনা, রসগোল্লা, গজা আরো কত কিছু। ১লা বৈশাখ-বর্ষবরণের আনন্দে পাহাড়ে ভিন্নমাত্রা রয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকার প্রধাণ ৩টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সমাজের বর্ষ বরণ উৎসব। এটি তাদের প্রধান সামাজিক অনুষ্ঠানগুলোর একটি। এ উৎসবটি ত্রিপুরাদের কাছে বৈসুব, বৈসু বা বাইসু , মার্মাদের কাছে সাংগ্রাই ও চাকমা ও তঞ্চঙ্গ্যাদের কাছে বিজু নামে পরিচিত। বৈসাবী নামকরনও করা হয়েছে এই তিনটি উৎসবের প্রথম অক্ষর গুলো নিয়ে। এবার পাহাড়ে ‘বৈসাবি’ উৎসব শুরু হয়েছে শনিবার থেকে।
চৈত্র মাসের শেষের দুই দিন থেকে বৈশাখ মাসের প্রথম সপ্তাহব্যাপী পাহাড়ে উদযাপিত হয় বৈসাবি উৎসব। পাহাড়ে বসবাসরত বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী নিজস্ব দিনপঞ্জি অনুসারে উৎসবটি পালন করে থাকে। বছরঘুরে এলো সেই দিনটি। নিজস্ব ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সাথে মিশে থাকা প্রাণের বৈসাবি উৎসব। নদী, ছড়া, খাল, পুকুরসহ পানির উৎসমুখে গঙ্গাদেবীর উদ্দেশ্যে ফুল দিয়ে প্রার্থনার মধ্য দিয়ে শুরু হয় বৈসাবির মূল আনুষ্ঠানিকতা। যদিও উৎসবের অনেক আগেই পার্বত্য চট্টগ্রামে মেলা, খেলাধূলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শোভাযাত্রাসহ বর্ণিল সব আয়োজনে উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছে।
ত্রিপুরাদের ‘বৈসু’ মারমাদের ‘সাংগ্রাই’ আর চাকমাদের ‘বিজু’ মূলত তিন সম্প্রদায়ের উৎসবের নামের আদ্যক্ষর দিয়েই ‘বৈসাবি’ নামকরণ করা হয়েছে। প্রতি বছর বাংলা নববর্ষের পাশাপাশি পাহাড়ে উদযাপিত হয় ঐতিহ্যবাহী এ উৎসব। চাকমা সম্প্রদায় ফুল বিজু, মূল বিজু এবং গজ্জাপজ্জা নামে তিন দিন ব্যাপি বিজু উৎসব করে থাকেন। ১৩ এপ্রিল থেকে ত্রিপুরা সম্প্রদায় হারি বৈসু, বৈসু এবং বিছিকাতাল নামে বৈসু উৎসব করবে এবং ১৪ এপ্রিল থেকে মারমা সম্প্রদায় সাংগ্রাই, আক্যে, আতাদা এবং আপ্যেং নামে সাংগ্রাই উৎসব করবে। এ সময় তারা ফুল দিয়ে ঘর সাজানো, গঙ্গাদেবীকে প্রার্থনা, অতিথি আপ্যায়ন, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, খেলাধূলা, মেলা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে মেতে থাকবে সপ্তাহ কাল। বৈসাবি উৎসব দিয়ে তিনটি জাতিগোষ্ঠীর উৎসবকে বোঝানো হলেও অরণ্যঘেরা পার্বত জনপদে ১০ ভাষাভাষির ১৩ জনগোষ্ঠীর বসবাস। তারা প্রত্যেকে নিজস্ব ঐতিহ্য, সংস্কৃতির মধ্য দিয়ে বর্ষবরণের উৎসব পালন করে থাকে। নিজস্ব আনুষ্ঠানিকতা বর্ণিল মাত্রা যোগ করে এই উৎসবে। এদিকে প্রতি বছর উৎসবকে ঘিরে সরকারের বিশেষ বরাদ্ধ সরকারি অনুদান পৌছানো হয় তৃণমূল দরিদ্র পরিবারের কাছে। জেলা-উপজেলায় সরকারি শোভাযাত্রা, মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়ে থাকে। প্রতিবছর পাহাড়ে ধনী-দরিদ্রের এমন বৈষম্যের মাঝেই এই বৈসাবি উদযাপন হয়ে থাকে। যা নিয়ে আসে আনন্দের বারতা।
আপনার মতামত লিখুন :