আলীকদম গরু বাজারে আগুন: সেনা জোন ও ফায়ার সার্ভিসের প্রচেষ্টায় নিয়ন্ত্রণ


admin প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ২২, ২০২৫, ৮:২৪ অপরাহ্ন /
আলীকদম গরু বাজারে আগুন: সেনা জোন ও ফায়ার সার্ভিসের প্রচেষ্টায় নিয়ন্ত্রণ
প্রিন্ট করুন

লামার আলো ডেস্ক:-

আলীকদম গরু বাজারে অগ্নিকান্ড। সেনা জোন ও ফায়ার সার্ভিসের প্রচেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। সোমবার (২২ ডিসেম্বর) দুপুর সাড়ে১২টায় এই অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষনিক কাছাকাছি আলীকদম সেনা জোন থেকে সেনা সদস্যরা নির্বাপক সরঞ্জাম নিয়ে আগুন নিভাতে সহায়তা করেন। জানাযায়, আলীকদম গরু বাজার সংলগ্ন জনৈক রফিক চৌধুরীর সেমিপাকা টিনসেড মার্কেটের পিছনে হঠাৎ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। সাপ্তাহিক গরু ক্রয় বিক্রয়ের বাজার চলমান থাকায় ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় তাৎক্ষণিকভাবে আতঙ্কের সৃষ্টি হয় এবং আগুন দ্রুত কয়েকটি দোকানে ছড়িয়ে পড়ে।

সংবাদ পাওয়া মাত্রই আলীকদম সেনা জোনের জোনাল স্টাফ অফিসার ক্যাপ্টেন ফাহিম মুনতাসির এর নেতৃত্বে ৩০ জন সেনাসদস্য নিয়ে গঠিত একটি অগ্নি নির্বাপন দল, আলীকদম ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট এবং থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। আলীকদম সেনা জোন কর্তৃক ফায়ার সার্ভিসকে প্রয়োজনীয় জনবল, লজিস্টিক ও নিরাপত্তা সহায়তা প্রদান করা হয়। স্থানীয় জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রায় ৩০ মিনিটের মধ্যে আগুন সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। যার দরুন বড় ধরনের কোন ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানি বা গুরুতর আহতের ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়।

আলীকদম সেনা জোন ও ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, মার্কেটের পিছনে একটি বসতবাড়ির সৌর প্যানেলের ব্যাটারি ছোট আকারে বিস্ফোরিত হওয়ার প্রেক্ষিতে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। অগ্নিকাণ্ডে কয়েকটি দোকান ও একটি বসতবাড়ির মালামাল পুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চিউও মার্মার ২০০ বস্তা সিমেন্ট, আনোয়ার জিহাদ চৌধুরীর টিভি, সোফাসেট ও আলমিরা, রুপন পালের খালি দোকানের কিছু মালামাল এবং রুপন কান্তি জুয়েলের বসতবাড়ির মালামাল ও স্বর্ণালংকার পুড়ে আনুমানিক সাত লক্ষ টাকা ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে।

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আলীকদম সেনা জোন, ফায়ার সার্ভিস, থানা পুলিশ ও স্থানীয় জনগণের সমন্বিত ও দায়িত্বশীল উদ্যোগের ফলে একটি সম্ভাব্য ভয়াবহ দুর্ঘটনা প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে। সময়োপযোগী নেতৃত্ব, পর্যাপ্ত জনবল ও লজিস্টিক সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে আলীকদম সেনা জোনের সক্রিয় ভূমিকা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। ফলে প্রাণহানি ও বড় ধরনের আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়।

আলীকদম জোনের জোনাল স্টাফ অফিসার, ভবিষ্যতে এ ধরনের অগ্নিকাণ্ড বা অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা প্রতিরোধে স্থানীয় প্রশাসন, বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটি এবং সংশ্লিষ্ট সকল মহলকে আরও সচেতন ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। বিশেষভাবে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা জোরদার করা, বৈদ্যুতিক সংযোগের নিয়মিত তদারকি, ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা পরিদর্শন এবং সর্বস্তরের মানুষের মাঝে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

আলীকদম সেনা জোন স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা, শান্তি ও সার্বিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সর্বদা পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতেও যে কোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত, কার্যকর ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণে আলীকদম সেনা জোন দৃঢ় প্রতিজ্ঞ এবং এই ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।