
নিজস্ব প্রতিবেদক, লামা (বান্দরবান) :- লামা উপজেলা ২৯৩ নং ছাগলখাইয়া মৌজা হেডম্যানের জাল রিপোর্ট বানিয়ে ভূমি দস্যুতার অভিযোগ উঠেছে জনৈক মোঃ আরিফ এর বিরুদ্ধে।
সম্প্রতি লাইনঝিরির বাসিন্দা মৃত সাহা আলমের বড় ছেলে আরিফ প্রতিবেশি নুরুজ্জামানের হোল্ডিংয়ের ১০ শতক জায়গা খাস দাবি করে মৌজা হেডম্যানের একটি জাল রিপোর্ট বানিয়ে প্রতারণা মাধ্যমে জবর দখলের পায়তারা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
আরিফ ভূয়া কাগজ দেখিয়ে অন্যের বন্দোবস্তিকৃত সম্পত্তি জবর দখলের পায়তারা চালাচ্ছে। লামা সদর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড ২৯৩ নং ছাগলখাইয়া মৌজাস্থ লাইনঝিরির বাসিন্দা নুরুজ্জামানের পৈত্রিক সম্পত্তির হোল্ডিং নং ২৬৭ এর আন্দর এজমালি ৩ একর ২য় শ্রেনির জমি রয়েছে।
প্রায় ৬ দশক ধরে বংশ পরম্পরায় নরুজ্জামানরা সেই হোল্ডিং বসবাস করে আসছে। বিগত দিনে সাহা আলম নামের এক ব্যক্তি ২৬৭ নং হোল্ডিংয়ের অংশ থেকে ১ একর জায়গা ক্রয় করে ভোগদখল করে আছেন।
স্থানীয়রা জানান, সাহা আলমের ছেলে মোঃ আরিফ নরুজ্জামানের জায়গার একাংশে লামা চকরিয়া সড়কের পাশে গোখাদ্য সংরক্ষণের জন্য নুরুজ্জামানের অনুমতি নিয়ে একটি খড়ের গাদা (কুইজ্জা) করেন।
সম্প্রতি আরিফ খড়ের গাদার পাশে তিনটি কলার চারা রোপন করতে চায়লে, নুরুজ্জামান বাধা দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মোঃ আরিফ লামা থানায় অভিযোগ করে বলেন, সেখানে দশ শতাংশ সরকারি খাস জায়গা আছে মর্মে দাবি করে তার নামে বানানো একটি হেডম্যান রিপোর্টের ছায়া কপি থানায় জমা দেন।
অতি সম্প্রতি মোঃ আরিফ নুরুজ্জামানের বিরুদ্ধে থানায় তিনটি কলার চারা কেটে দেয়ার অভিযোগ করেন। ওই অভিযোগের সূত্র ধরে অনুসন্ধান করতে বেরিয়ে এসেছে আরিফের ছলচাতুরী।
মোঃ আরিফের করা থানার অভিযোগ তদন্তে জানায়, বিগত ২৭/১০/ ২০১০ সালে স্মারক নং-১২/২০১০ মূলে ১০ শতক খাস জায়গা তৎকালীন ২৯৩ নং ছাগল খাইয়া মৌজার ভারপ্রাপ্ত (ইয়াংছা মৌজার) হেডম্যান থেকে একটি রিপোর্ট নিয়ে জায়গার মালিক হয়। অপরদিকে সেই জায়গায় নুরুজ্জামানের পিতার সৃজিত ৪০/৫০ বছর আগের কয়েকটিসহ ছোটবড় বেশ গাছগাছালি রয়েছে।
এদিকে মোঃ আরিফের প্রদর্শিত হেডম্যান রিপোর্ট সম্পুর্ন জাল বা ভুয়া বলে দাবি করেন নুরুজ্জামান ও লািনঝিরি গ্রাবাসীরা। এই রিপোর্টের ব্যপারে ২৯৩ নং ছাগল খাইয়া মৌজা হেডম্যান জানান, আরিফ পিতা মৃত সাহা আলম নামের কোনো হেডম্যান প্রতিবেদন, রিপোর্ট রেজিস্ট্রারে অস্তিত্ব নেই।
অপরদিকে ইয়াংছা হেডম্যানও একই বক্তব্য দিয়ে বলেন, “বিগত ২০১০ সালে মামলা সংক্রান্ত জটিলতার কারনে আমার প্রয়াত বাবা চরই হেডম্যন কিছু দিনের জন্য ২৯৩ নং ছাগল খাইয়া মৌজার ভারপ্রাপ্ত হেডম্যানের দায়িত্বে ছিলেন সত্য। তিনি দায়িত্ব পালনকালে ২৯৩ নং ছাগল খাইয়া মৌজার খাস জায়গার কোনো রিপোর্ট প্রদান করেন নাই, সুতরাং ছাগল খাইয়া মৌজার প্রজা মোঃ আরিফ পিতা মৃত সাহা আলম এর নামে রিপোর্টটি সঠিক নয়।”
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দা অনেকের সাথে কথা বলে জানাযায়, জায়গাটি পৈত্রিকভাবে নুরুজ্জামানের হোল্ডিংভুক্ত দখলীয়।
মোঃ আরিফ জোরপূর্বক মিথ্যা ও ছলনার মাধ্যমে জায়গা দাবি করে ঝামেলা করতেছে। স্থানীয়রা আরো অভিযোগ করে জানান, মোঃ আরিফ হেডম্যান রিপোর্টে ২০১০ সালে তার বাবা সাহা আলমকে মৃত পিতা হেসেবে উল্লেখ করেছেন। বস্তুতঃ তার পিতা সাহা আলম মৃত্যুবরণ করেছেন ২০১৯ সালে। এতেই প্রমান হয় মোঃ আরিফ প্রতারণার মাধ্যমে নুরুজ্জামানের জায়গা দখল আত্মসাতের ষড়যন্ত্র করে শান্তি শৃঙ্খলা বিনষ্টের চেষ্টা চালাচ্ছে। এ ব্যপারে নুরুজ্জামান আইনের আশ্রয় নিবেন বলে জানিয়েছেন।
আইনে স্পষ্ট উল্লেখ আছে; জাল বা ভুয়া রিপোর্ট/কাগজপত্র তৈরি করে জায়গা দখলের চেষ্টা একটি গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ। কেউ জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা করলে বা হুমকি দিলে সর্বপ্রথম থানায় একটি জিডি করার জন্য বলেন স্থানীয়রা।
প্রসঙ্গ: জালিয়াত চক্রের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪২০ (প্রতারণা), ৪৬৭ (মূল্যবান সিকিউরিটি বা দলিল জাল করা), ৪৬৮ (প্রতারণার উদ্দেশ্যে জাল করা) এবং ৪৭১ (জাল দলিল আসল হিসেবে ব্যবহার) ধারায় সরাসরি ফৌজদারি মামলা বা আদালতে নালিশি মামলা দায়ের করা যায়।
আপনার মতামত লিখুন :