লামায় এক রোহিঙ্গা নাগরিক থেকে জমি কিনে হয়রানি করছে স্থানীয়দেরকে


admin প্রকাশের সময় : ফেব্রুয়ারী ২১, ২০২৪, ৩:১১ অপরাহ্ন /
লামায় এক রোহিঙ্গা নাগরিক থেকে জমি কিনে হয়রানি করছে স্থানীয়দেরকে
প্রিন্ট করুন

লামার আলো ডেস্ক:-
পার্বত্য লামায় অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের অনেকেই জালজালিয়াতির মাধ্যমে জমিজমা কিনে ঘরবাড়ি করে থাকছে। এই সুযোগে স্থানীয় একটি প্রতারক চক্র রোহিঙ্গা নাগরিকদেরকে ব্যবহার করে অনিয়ম দূর্নীতির মাধ্যমে ভূমি গ্রাসের পায়তারা করছে। রোহিঙ্গা নাগরিকের নামে ভূয়া ভোটার কার্ড বানিয়ে জমির মালিক বানিয়ে নিজেদের স্বার্থ উদ্ধার করে ওই চক্রটি। অতপর ভুল তথ্য দিয়ে বিজ্ঞ আদালতে মামলা করিয়ে, সে মামলার পক্ষভূক্ত হয় চক্রের হোতারা। পরে সময় সুযোগ করে স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ অথবা প্রয়োজনীয় (ভুয়া) কাগজ বানিয়ে রোহিঙ্গা নাগরিকের কাছ থেকে আরেকটি চুক্তি দলিলমূলে, ইতোপূর্বে অবৈধ পক্রিয়ায় নেয়া জমি নিজের নামে করিয়ে নেয়ার অপচেষ্টায় নিরীহদেরকে হয়রানী করছে। গত কয়েক বছর ধরে ভূমি সংক্রান্ত বিজ্ঞ আদালতে একটি মামলার ‘রায়, আপিল অতপর বাতিল হয়ে আরেকটি রায়’ হয়। এসব দলিল দস্তাবেজ ও স্থানীয় বিচার বৈঠক সূত্রে ভূমির মালিকানা দাবির পেছনের নানান তথ্যে উঠে আসে এক দুই নাম্বারী কাহিনী। সূত্রে প্রকাশ, ১৯৯৮ সালে জালাল আহমদ নামের এক রোহিঙ্গা নাগরিক উপজেলার সরই ইউনিয়নে টুইন্যাপাড়ার বাসিন্দা আকবর আহমেদ এর পালক মেয়েকে বিয়ে করেন। মেয়ে ও জামাতার ভবিষ্যতের কথা ভেবে, জালাল আহমদ এর নামে বায়না দলিল নং-২০০/৯৮মূ্লে হোল্ডিং নং ৩৩৮ থেকে এক একর ২য় শ্রেণির ও হোল্ডিং নং আর/ ২ থেকে ৩য় শ্রেণির এক একর মোট দুই হোল্ডিং থেকে ২ একর সম্পত্তি লিখে দেন এবং ওই সম্পত্তির উপর আকবর আহমদ বসতঘর করে দিয়ে মেয়ে জামাতাকে থাকতে দেন। তার কয়েক বছর পর স্ত্রীর সাথে রোহিঙ্গা নাগরিক জালাল আহমদের সম্পর্ক ছিন্ন হয়। মেয়ের সুখের জন্য আকবর আহমদ যে দু’একর সম্পত্তি জালাল আহমদকে দিয়েছিল, তা জালাল আহমদ বাংলাদেশি নাগরিক না হওয়ায়, নিজের নামে রেকর্ড করাতে পারেন নাই। এদিকে সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ায়, ২০০৮ সালে আকবর আহমদ উক্ত জমির দলিল বাতিলের জন্য বান্দরবান জজ কোর্টে মামলা করেন, যার নং-৩৮/৮। খোঁজ নিয়ে জানাযায়, ওই মামলা চলাকালীন সময়ে লোহাগাড়া উপজেলার পুটিবিলা ইউনিয়নের বাসিন্দা আব্দুস ছোবহান নামের একজন রোহিঙ্গা নাগরিক জালাল আহমেদ এর আসল পরিচয় লুকিয়ে তার
বায়নানামা দলিল অনুবলে ২০০৮ সালে বিরোধীয় ভূমির নিজের নামে আরেকটি চুক্তিনামা দলিল নং-১৬৪৫/৮ করে নেন। এর পর ২০১২ সালে রোহিঙ্গা জালাল আহমেদ এলাকা ছেড়ে পালালে, আকবর আহমদ কর্তৃক করে দেয়া ঘরটিতে আঃ ছোবহান কোনো এক রাতের অন্ধকারে তার ভাই আঃ মান্নানকে দিয়ে দখল করায়। তার কিছুদিন পরই ২০১২ সালে আকবর আহমেদের করা মামলায় বিজ্ঞ আদালত রোহিঙ্গা নাগরিক জালাল আহমদ এর নামের বায়নানামা দলিল বাতিল করার রায় ঘোষণা করেন। এদিকে রায় ঘোষনার ওই তারিখেই আকবর আহমদ মৃত্যুবরণ করেন। এর পর জালাল আহমদ এর পক্ষভূক্ত হয়ে আব্দুস ছোবহান দলিল বাতিল মামলার রায়ের বিরুদ্ধে ২০১৬ সালে আপিল করেন।
এদিকে ২০১৮ সালে মৃত আকবর আহমেদের ওয়ারিশরা পিতার সম্পত্তি নামজারী করার আবেদন করেন। ওই নামজারী মামলায় আপত্তি দিয়ে কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় আবদুস ছোবহান। এদিকে আকবর আহমেদের ওয়ারিশদের নামজারী ফাইল থেকে কাগজ চুরি করে ২০২১ সালে আঃ ছোবহান রোহিঙ্গা নাগরিকের নামে বায়নানামা দলিল থেকে চুক্তি দলিলমূলে নিজের নামে মিসকেস চালু করেন। উক্ত মিসকেসে আকবর আহমদের ওয়ারিশ (ছেলে) নাছির উদ্দিন আপত্তি দেন। লামা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ২০ ফেব্রুয়ারি আপত্তি শুনানি করতে উভয় পক্ষকে নোটিশে তলব করেন। কিন্তু ২০ ফেব্রুয়ারি বাদী নাছির উদ্দিন ও বিবাদী আব্দুস ছোবহান হাজির হন। তবে অপর বিবাদী রোহিঙ্গা নাগরিক জালাল আহমেদ হাজির হন নাই। ফলে পরবর্তীতে আরেকটি শুনানীর জন্য বলা হয়।
চট্টগ্রাম জেলা লোহাগাড়া থানার পুটিবিলা ইউনিয়নের একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা ও সেখানে নিকাহনামা কাজী আবদুস ছোবহান রোহিঙ্গা নাগরিক জালাল আহমদ এর দূর্বলতার সুযোগে বিতর্কিত জমি বসতঘরসহ ক্রয়সূত্রে দাবি করে রাতারাতি দখল নিয়ে আকবর আহমদের পরিবারকে হয়রানি করে চলছে বলে জানান ভুক্ত ভোগীরা। খোঁজ নিয়ে জানাযায়, রোহিঙ্গা নাগরিক জালাল আহমদ এর যে ভোটার আইডি সংযুক্ত করে আব্দুস ছোবহানকে চুক্তিনামা দলিলমূলে বিক্রয় চুক্তি দলিল করা হয়েছে, সেই ভোটার আইডিতে নাম ঠিকানা হচ্ছে; জালাল আহামদ, পিতা মতিয়র রহমান, সাং ৩০১ নং সরই মৌজা, ৫ নং সরই ইউনিয়ন, ১নং ওয়ার্ড, লামা উপজেলা, বান্দরবান পার্বত্য জেলা। আইডি নং- ৫৬৪০৭০৬০১০১১০১৬৭) পরীক্ষা করে জানাযায়, উক্ত ভোটার আইডি বা এই নামের কোনো অস্তিত্ব নেই। এছাড়া সরই ইউনিয়নের কোনো ওয়ার্ডে এই নাম পরিচয়ের কোনো মানুষ নেই মর্মে ইউপি চেয়ারম্যন সার্টিফাই করেছেন। রোহিঙ্গা নাগরিক জালাল আহামদকে বাংলাদেশের মিথ্যা, ভূয়া নাগরিক বানাতে যারা সহায়তা করেছে ও এলাকায় ভূমি দস্যুতা করে, আইন শৃঙ্খলার অবনতি ঘটাচ্ছে, তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থার দাবি করেছেন ভুক্তভোগী জনগন। এ ব্যপারে ২০ ফেব্রুয়ারি এই প্রতিনিধি আব্দুস ছোবহানের কাছে জানতে চাইলে, আব্দুস ছোবহান বিষয়টি এড়িয়ে যান।