
লামার আলো ডেস্ক:-
পার্বত্য লামা পোরসভা ঘেঁষে চকরিয়া বমুবিলছড়ি ইউনিয়নে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে গ্রামবাসীদের উপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। চকরিয়া প্রশাসন দ্রুত হস্তক্ষেপ না করলে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারী ও ভুক্তভোগী গ্রামবাসীদের মধ্যে যে কোন সময় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটার আশঙ্কা করেছেন স্থানীয়রা।
জানাগেছে, সোমবার বার সকাল ১০টার দিকে বমুবিলছড়ি ইউনিয়নের পূবপাড়া নামক স্থানে মাতামুহুরি নদী থেকে অবৈধ পন্থায় বালু উত্তোলনের ফলে ক্ষতিগ্রস্থ বাসিন্দারা বাঁধা দেয়। এসময় বালু উত্তোলনকারী বমুবিলছড়ি পূর্বপাড়া ৩ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোঃ মফিজ বনাম ভুক্তভোগী গ্রামবাসীর মধ্যে বাকবিতন্ডায় ও হাতাহাতি হয়।

বিষয়টি নিয়ে সংঘাতের আশঙ্কা করছেন অনেকই। স্থানীয়দের অভিযোগ; বালু উত্তোলনের ফলে নদী তীরবর্তী ফসলী জমি ভাঙনের কবলে। এছাড়া গ্রামের রাস্তাঘাট বিনষ্ট হচ্ছে।
উল্লেখ্য; বমুবিলছড়ি ইউনিয়নটি চকরয়িা উপজেলার অধিক্ষেত্র হলেও লামা উপজেলার পেটের ভেতর। ভৌগোলিকভাবে চকরিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন বলা যায়। যার ফলে চকরিয়া প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর ইউনিয়নটিতে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে বিলম্ব হয়। একই সাথে পার্বত্য লামা বেষ্টিত বিচ্ছিন্ন এই ইউনিয়নের বাসিন্দারা প্রশাসনিক সেবা, মামলা মোকদ্দমার ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রিতায় পড়তে হয়।
এর ফলে ইউনিয়নটিতে বেআইনিভাবে প্রাকৃতিক সম্পদ উজাড় হচ্ছে। এতে স্থানীয় নিরীহ প্রজা সাধারণ এক শ্রেণির লুটেরা প্রভাবশালীদের কাছে জিম্মি দশায় পড়তে হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা জানান, ‘বালু খেকো মফিজ ইয়াবা কারবার করে কয়েক দফা পুলিশের কাছে ধরা পড়ে। তার বিরুদ্ধে লামা ও বিভিন্ন থানায় মামলা রয়েছে। সে সাবেক ফ্যাসিস্ট আওয়ামিলীগ এর ইউনিয়ন পর্যায়ের উচ্ছৃঙ্খল নেতা।’
গ্রামবাসী কয়েকজন আরো জানান, মফিজ গং মাতামুহুরি নদী থেকে নিম্মমানের বালু তুলে সেগুলো লামা পৌর শহর রক্ষা প্রকল্প ব্লক নির্মাতাদের কাছে বিক্রি করেন। ফলে ব্লকের মান খারাপ হচ্ছে। এ বিষয়ে স্থানীয়রা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনসহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশল বিভাগের ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের নজর দেয়ার দাবি জানান।
সোমবারের ঘটনা সম্পর্কে জানার জন্য, মোঃ মফিজের মুঠোফোনে কল করে জানতে চাইলে, সে জানায়, মারামারির কোনো ঘটনা ঘটে নাই। তবে সেখানে আমাকে অশ্লিল গালিমন্দ করাকে কেন্দ্র করে বাক বিতন্ডা হয়। সে আরো জানায়, ‘আমি এর আগে বালু তুলেছিলাম, এখন আমার একটি ড্রেজার মেশিন আছে তবে বালু তুলিনা এবং ব্লক নির্মাতাদের কাছে বালু বিক্রি করিনা। তবে সেখানে বালু নিয়ে দলীয়ভাবে ঝগড়া বিবাদ হয়।’
বমুবিলছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা আব্দুল মোতালেব এঁর কাছে জানতে চাইলে তিঁনি জানান, এই বিষয়ে আমি শুনেছি তবে বিস্তারিত এখনো জানিনা। এই নেতা আরো বলেন, এই চক্রটি অবৈধ বালু তোলার ফলে মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এটা সত্য।
বিষয়টি নিয়ে চকরিয়া উপজেলা এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সহকারী কমিশনার (ভূমি) রুপায়ন দেব এঁর সাথে আলাপ হলে তিঁনি জানান, ‘মারামারি সম্পর্কে কিছু জানাযায়নি।
মাঝে মধ্যে সেখানে অভিযান চালানো হয় আরো হবে।’
আপনার মতামত লিখুন :