
মূল্যবোধ আর যুক্তিবিচারের সংকট দেখা দিয়েছে
হানাহানি আর লোভের পৃথিবীতে মূল্যবোধ আর যুক্তিবিচার প্রতিষ্ঠা করা কঠিন। তাই বলে কি এর দুটোর কোনোটাই থাকবে না?
অবশ্যই থাকবে, নইলে যে পৃথিবী সামনের দিকে আগানোর অনুপ্রেরণা হারাবে।
আর সে জন্যই যুগে যুগে, সময়ে সময়ে অনুপ্রেরণাদানকারী হিসেবে কিছু মানুষের আবির্ভাব হয়।
আমাদের অপেক্ষা করতে হবে আরেকটি রেনেসাঁসের, যার নেতৃত্ব দেবেন মূল্যবোধসম্পন্ন সংস্কৃতিমান ব্যক্তিরা। কিন্তু হতাশ হতে হয় যখন নেতৃত্বে থাকার যে তরুণ জনগোষ্ঠী তাঁদের দিকে তাকালে। সর্বত্রই যেন একটা হাহাকার, না পাওয়ার আক্ষেপ আর স্থূল সুখের দিকে ধাবমান। তরুণ জনগোষ্ঠীর এহেন আচরণ বারবার হতাশাকেই বাড়িয়ে দেয়। সৈয়দ আবুল মকসুদের ভাষায় বলতে হয়: ‘মেধাবীরা যদি শুধু বহুজাতিক কোম্পানিতে চাকরি করাকেই জীবনের ধ্রুবতারা মনে করে;
গাড়ি পাবে, ফ্ল্যাট কিনবে অভিজাত এলাকায়-এসবই হয় তাদের লক্ষ্য তাহলে তাদের থেকে জাতি কিছু পায় না।’ এ যেন মূল্যবোধ অবক্ষয়ের মহোৎসব। এতে করে জীবনমান বৃদ্ধি পায় সত্য, জীবন সমৃদ্ধি হয় না।
জীবন সমৃদ্ধি করতে হলে ব্যক্তি পর্যায় থেকে শুরু করে রাষ্ট্র পর্যায়ে মূল্যবোধ আর যুক্তিবিচার প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই।
লেখক মোতাহার হোসেনের কথা দিয়েই শেষ করব, ‘যুক্তিবিচার আর মূল্যবোধ-এই দু’টি কথা আমাদের জপ মন্ত্র হোক;
তাহলেই আমরা বর্বরমুক্ত হয়ে সুন্দর ও সুসভ্য হতে পারব’।
আপনার মতামত লিখুন :