
ডেস্ক রিপোর্ট:
আজ বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রামে ক্ষুদ্র জাতি সত্ত্বাদের বড় সামাজিক উৎসব শুরু হলো।
সাংগ্রাই উৎসবে মারমা এবং রাখাইন জাতিগোষ্ঠীর নববর্ষ উৎসব। যা প্রতিবছর এপ্রিলের ১৩ থেকে ১৫ তারিখে পালিত হয়। যদিও এটি মারমাদের অন্যতম প্রধান একটি ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠান, তবে রাখাইনরাও নিজস্ব নিয়মে সাংগ্রাইয়ের মাধ্যমে বর্ষবরণ করে নেয়। মারমাদের ক্ষেত্রে তাদের বর্মী বর্ষপঞ্জি অনুসরারেই এটি পালিত হয়। মারমাদের বর্ষপঞ্জিকাকে “ম্রাইমা সাক্রঃয়” বলা হয়। “ম্রাইমা সাক্রঃয়” এর পুরনো বছরের শেষের দুই দিন আর নতুন বছরের প্রথম দিনসহ মোট তিনদিন কে মারমারা সাংগ্রাই হিসেবে পালন করে থাকে। আগে “ম্রাইমা সাক্রঃয়” অনুযায়ী এই তিনদিন ইংরেজি ক্যালেন্ডারের এপ্রিল মাসের মাঝামাঝিতে পড়লেও এখন ইংরেজি ক্যালেন্ডারের সাথে মিল রেখে এপ্রিলের ১৩,১৪ ও ১৫ তারিখে পালন করা হয়। ১৩ তারিখের সকালে পাঃংছোয়াই (ফুল সাংগ্রাই), ১৪ তারিখে প্রধান সাংগ্রাই আর ১৫ তারিখে পানি খেলার সাথে মারমাদের ঐতিহ্যবাহী খেলাগুলোও অনুষ্ঠিত হয়। আজ থেকে ঘরে ঘরে সেই আনন্দের জোয়ার বইছে।
অপরদিকে চাকমাদের বিজু। সব মিলিয়ে বৈসাবির আনন্দে মেতে উঠেছে পাহাড়ের মানুষ। পাহাড়ি পল্লীগুলোতে বইছে আনন্দের জোয়ার। ঘরে ঘরে বিশেষায়িত খাবার পাঁচন (চাকমা ভাষায় পাজন) দিয়ে আপ্যায়ন করা হচ্ছে আগত অতিথিদের। সঙ্গে দেওয়া হচ্ছে নানারকমের পিঠাপুলি এবং ফলমূল।
পার্বত্য অঞ্চলের ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠির মধ্যে চাকমা জাতিরা আজ মূল বিজু এবং ত্রিপুরা সম্প্রদায় বৈসুকমা উৎসব পালন করছে।
চাকমারা এইদিনে সকল প্রকার আমিষ জাতীয় খাবার ভোজনের মধ্যে দিয়ে পুরোনো বছরকে বিদায় করে। অন্যদিকে ত্রিপুরারা নিরামিষ গ্রহণ করে থাকে।
এইদিন চাকমা সম্প্রদায় বিভিন্নরকম শাক-সবজি দিয়ে নিরামিষ পাঁচন তৈরি করে। তবে আগামীকাল পহেলা বৈশাখে ত্রিপুরা সম্প্রদায় ত্রিপুরাব্দ অর্থাৎ বিসিকাতাল পালন করবে। এইদিন বিভিন্ন রকম মাছ-মাংসসহ বিভিন্ন সুস্বাদু খাবার ভোজনের মধ্যে দিয়ে তারা নতুন বছরকে বরণ করবে। এরআগে গতকাল পাহাড়ের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠিদের অন্যতম সম্প্রদায় চাকমারা ফুল বিজু এবং ত্রিপুরা সম্প্রদায় ‘হারিকুইসুক’ উৎসব পালন করা হয়েছে। নতুন বছরের মধ্যদিয়ে পাহাড়ের প্রতিটি আঙ্গিণায় সুদৃড় হোক শান্তি মৈত্রীর বন্ধন। এমনটা প্রত্যাশা আমাদের।
আপনার মতামত লিখুন :