
হার না মানা ব্রিকফিল্ড সিন্ডিকেট, সরকার প্রধানের আহ্বান শুনেছেন কি! আসলেই কি ইটভাটার কার্যক্রম বন্ধ রাখবে তারা(!)।
আসন্ন মৌসুমে লামা উপজেলায় ইটভাটা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ভাটা মালিক পক্ষ। অচিরেই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে ইটভাটা মালিক পক্ষ তাদের সিদ্ধান্তের কথা জানান দিবেন।
এই তথ্য নিশ্চিত করে একজন ইটভাটা মালিক ও নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি গত রোববার (২ আগস্ট) বিকেল চারটা ৩৮ মিনিটে মুঠোফোনে জানান, মালিক পক্ষ এতদবিষয়ে প্রেস কনফারেন্স করে তাদের সিদ্ধান্তের কথা জানান দিবেন।
অন্যদিকে অপর এক ইটভাটা মালিক গত শনিবার (১ আগস্ট) জানিয়েছেন; তারা লাকড়ি পুড়িয়ে এবার ইট উৎপাদন করবেন না। লামা উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নে ১৩টি জিকজাক ইটভাটা চালু রাখবে।
তবে কি পরিবেশ অধিদপ্তর লামা উপজেলার ফাইতংয়ে জিকজাক পদ্ধতির ইটভাটা অনুমোদন দিয়েছেন(?)।
অন্যদিকে এই উপজেলায় সরকার বা পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক কোনো ধরণের ইটভাটা স্থাপনের অনুমোদন নেই বলে প্রশাসন সূত্রে জানাযায়।
অভিযোগ রয়েছে, ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি ইটভাটার লোকেরা (মেশিন) এস্ককাভেটর লাগিয়ে পাশের পাহাড় কর্তন করে মাটির জোগান নিশ্চিত করতেছেন। এতে বুঝা যাচ্ছে ইটভাটা সিন্ডিকেট তাদের কর্মকান্ডে অপ্রতিরোধ্য।
ইটভাটা মালিক পক্ষের কতিপয় নেতা ভাটা বন্ধ রাখার কথা জানালেও অনেকেই এখন থেকে ভাটা করার আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানাযায়।
অসমর্থিত সূত্রের বরাতে জানাযায়, আসন্ন মৌসুমে সরকার দলীয় ছত্রছায়ায় ব্রিকফিল্ড চলবে। যে কোনোভাবেই তাদের লবিস্টরা অনুকুল সহায়ক হবেন।
সচেতন সমাজের বক্তব্য হচ্ছে; বিগত দুই সিজন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সব চেয়ে প্রভাবশালী পরিবেশ উপদেষ্টার কঠোর হস্তক্ষেপের তোয়াক্কা না করে ইটভাটা মালিকরা তাদের কার্যক্রম চালিয়ে গেছে। ম্যাজিস্ট্রেট এর নেতৃত্বে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর বাঁধা কাজ হয়নি।
হাল রাজনৈতিক দলের সরকার আমলে ভাটা মালিকদের লবিং অনেক স্ট্রং। এই রাজনৈতিক বাস্তবতায় পরিবেশ অধিদপ্তরের করিৎকর্মারা সরকার প্রধানের পরিবেশ বান্ধব চিন্তাভাবনার প্রতিফলন কতটুকু ঘটাতে পারবেন, সেটাই এখন বড় করে দেখার বিষয়।
প্রসঙ্গত: বিগত চার দশক আগে লামা-আলীকদম উপজেলায় ৭/৮টি ইটভাটা ছিলো। ২০১০ সাল থেকে এই সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে শুধু লামা উপজেলায় ৪০টি ইটভাটা বিদ্যমান।
এর মধ্যে উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নে রয়েছে ৩০টিরও বেশি ভাটা। এসব ইটভাটার মাটি জোগান দিতে বহু পাহাড় প্রকৃতি থেকে বিলিন হয়েগেছে। চরম হুমকির মুখে পড়েছে জীববৈচিত্র্য। ঝিরি ঝর্ণা খালবিল পানিশুণ্য হয়ে পড়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :