
লামার আলো ডেস্ক:-
লামা পৌরসভা ৮নং ওয়ার্ড লাইনঝিরির বাসিন্দা আব্দুল বারেকের পরিবার সংবাদ সম্মেলন করে প্রতিবেশি মৃত হানিফ ভান্ডারির পরিবার কতৃক মব সৃষ্টি করে সম্পত্তি দখলের উদ্দেশ্যে মামলা হামলা ও ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে মিথ্যা অপপ্রচার চালানোর প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার ১৭ জুন লামা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ‘সাম্প্রতিককালে তাদেরকে ভূমিচ্যুত করার জন্য প্রতিবেশি মৃত হানিফ ভান্ডারির ছেলেরা হামলা নির্যাতন মিথ্যা অভিযোগ ও অপপ্রচারের মাধ্যমে তাদেরকে দিশে হারা করে তুলেছে। মৃত হানিফ ভান্ডারির ছেলে, আমির হোসেন, আনোয়ার হোসেন (বিজিবি সদস্য), ভাই মোঃ শাহাজান ও সোহরাব হোসেন, সোহরাব হোসেনের ছেলে মনির হোসেন প্রায় সময় ভাড়াটিয়া লাঠিয়াল বাহিনী নিয়ে কিছুদিন পরপর বারেকের ছেলে, নাতিদের দোকানপাটে হামলা চালায়। সর্বশেষ গত ৯ জুন রাতে একদল ভাড়া করা সন্ত্রাসী নিয়ে তাদেরকে ভোগদখলীয় জমি থেকে উচ্ছেদ করতে হামলা চালায়। পুলিশ ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে রেহায় পায় তারা।’ সংবাদ সম্মেলনে আরো বলা হয়, ‘হানিফ ভান্ডারির পিতা রুস্তম আলীর নামীয় দুই চৌহদ্দিতে আর/ ৩১২ নং হোল্ডিংয়ে মোট ৫ একর ২য় ও ৩য় শ্রেণির জমি আছে। যার অবস্থান আব্দুল বারেকের ছেলেদের দখলীয় জায়গা থেকে অনেক দূরে। এছাড়া রুস্তম আলীর নামে ২২ নং হোল্ডিংয়ে দুই চৌহদ্দিতে ৩য় শ্রেনির ৫ একর জায়গা ছিলো। ওই জায়গা মাতামুহুরি কলেজের নামে সম্পুর্ন নাম জারী হয়ে ওই হোল্ডিং থেকে রুস্তম আলীর নাম খারিজ হয়। বর্তমান কলেজের জায়গা ঘেঁষে উত্তর পাশ দিয়ে লামা চকরিয়া সড়ক বিদ্যমান। বারেকের ছেলেদের বর্তমান দখল লামা চকরিয়া সড়কের উত্তর পাশে সড়ক ঘেঁষে। উপরদিকে লামা চকরিয়া সড়ক ঘেঁষে উত্তর দিকে বারেকের পিতা ওমর আলীর নামীয় ৪৯৬ খতিয়ানে বিভিন্ন দাগাদির আন্দর ২ একর জমি আছে। ওইসব দাগাদির কতক জমি বিক্রিও করা হয়েছে। বারেকের ছেলে নাতিদের বর্তমান দখলীয় দোকানপাটসহ জায়গা আনুমানিক ১৫ শতক; ওমর আলীর খতিয়ানের মাথাখিলা খাস, না হয় সড়ক ও জনপথ বিভাগের জায়গা। কিন্তু সেখানে মৃত হানিফ ভান্ডারির পরিবার বারবার জায়গা দাবি করে হামলা চালায়। জায়গাটি লামা-আলীকদম চকোরিয়া সড়কের লাইনঝিরি তিন রাস্তার মোড়ে অবস্থিত হওয়ায়, বানিজ্যিক পয়েন্ট। যার কারণে ওই জায়গার প্রতি তাদের হানিফ ভান্ডারির ছেলেদের লোলুপ দৃষ্টি পড়ে। এর আগে বিগত ৯০’র দশকে হানিফ ভান্ডারীর পিতা রুস্তম আলী উক্ত জায়গা জবর দখল করতে চেয়েছিলো। তৎসময়ে ১ম উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আলীমিয়ার মধ্যস্থতায় রুস্তম আলী উক্ত জায়গা দাবি করেবনা মর্মে লিখিত অঙ্গিকার দেন। ২০০৪ সালে ওই জায়গা দোকানপাটসহ হানিফ ভান্ডারি জবর দখল করতে চায়লে, তৎসময় লামা থানায় আমরা একটি সাধারন ডাইরি নং-২৭৫, তারিখ- ৮/০৭/২০০৪ ভুক্ত করলে ওই সময়েও একই অপরাধ আর করবেনা বলে আদালতে মুচলেকা দেয়। ২০২২ সালে হানিফ ভান্ডারির পরিবার আবারো জবর দখল চেষ্টা চালালে লামা থানায় আবারো তাদের নামে সাধারণ ডায়েরি নং- ৪৪৬, তারিখ: ১১/০৪/২০২২ অন্তর্ভুক্ত হয়। একই সময় হানিফ ভান্ডারি পরিবার লামা উপজেলা নির্বাহী আদালতে পিটিশন মামলা নং ১৯/২০২২ দাখিল করেন। তাদের মামলার প্রেক্ষিতে লামা সহকারি কমিশনার (ভূমি) কানুনগোদ্বারা সরেজমিন তদন্ত করায়। তদন্ত রিপোর্ট উল্লেখ করা হয়,’সরজমিন তদন্তে প্রাপ্ত সার্বিক বিষয়াদি পর্যালোচনায় পক্ষদ্বয়ের দাখিলীয় জমাবন্দি দৃষ্টে দেখা যায় জমাবন্দি ভূক্ত চৌহদ্দির সাথে সরজমিন বাস্তব চৌহদ্দি যথাযথ নয় মর্মে প্রতীয়মান। তর্কিত নালিশী জায়গা সরকারী রাস্তার জায়গা বিধায় পক্ষদ্বয়কে নালিশী জমিতে প্রবেশ করা হতে বিরত থাকার আদেশ দেওয়া যেতে পারে। ওই মামলার আদেশে বলা হয়, জায়গা “বাদি পক্ষের বেদখল হয় নাই মর্মে প্রতীয়মান হওয়ায় মামলা নথিজাত”।
উক্ত জায়গাটি দীর্ঘকাল ধরে বারেকের ছেলেদের দখলে। সেখানে দোকানপাট দিয়ে আয় রোজকার করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। সংবাদ সম্মেলনে আরো বলা হয়,
‘হানিফ ভান্ডারির ছেলে আমির হোসেন ও তার ভাই বিজিবি সদস্য আনোয়ারসহ অন্যান্য চাচা ও চাচাতো ভাই মনির হোসেন আগস্ট পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক খোলস পাল্টিয়ে যত্রতত্র মব সৃষ্টি করছে। একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক দলের নামভাঙ্গিয়ে ও সাংগঠনিক পরিচয় দিয়ে আমাদেরকে আওয়ামীলীগ ও ছাত্রলীগের ট্যাগ লাগিয়ে আমাদের দখলী সম্পত্তি স্থাপনা ভাঙচুর ও দখল করতে না পেরে মনগড়া তথ্য দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে মানহানিকর মিথ্যা খবর ছড়াচ্ছে। মব সৃষ্টিকারী ভুমি দস্যু এই পরিবারটির রাহুগ্রাস থেকে আমরা মুক্তি চাই। আমাদের বিরুদ্ধে থানা আদালতে এ পর্যন্ত কোনো বেআইনি কর্মকান্ডের অভিযোগ নেই। অপরদিকে তাদের বিরুদ্ধে বেআইনি নানান কর্মকান্ডের অভিযোগ রয়েছে। এই অবস্থায় লেখনীর মাধ্যমে এই জবর দখলের পায়তারাকারী রাজনীতির খোলস বদলানো হানিফ ভান্ডারির পরিবারের আগ্রাসনের বিষয়টি আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর নজর আনার দাবি করছে নির্যাতি আব্দুল বারেকের পরিবারের সদস্যরা। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আব্দুল বারেকের ভাগিনা মোঃ ইসহাক।
আপনার মতামত লিখুন :