আলীকদম-লামা সড়কের মানোন্নয়ন ও বিআরটিসি সার্ভিসের দাবিতে মানববন্ধন


admin প্রকাশের সময় : মে ৩, ২০২৫, ১:৫৭ অপরাহ্ন /
আলীকদম-লামা সড়কের মানোন্নয়ন ও বিআরটিসি সার্ভিসের দাবিতে মানববন্ধন
প্রিন্ট করুন

লামার আলো ডেস্ক:- লামা -আলীকদম সড়কের মানোন্নয়ন, ফিটনেসবিহীন ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবহন বন্ধ করে বিআরটিসি সার্ভিসের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয়রা। সময়ের চাহিদা পূরনে দক্ষিণ বান্দরবানের সীমান্তবর্তী ও জনবহুল উপজেলা লামা-আলীকদমে নিরাপদ উন্নত মানের সরকারী (বিআরটিস) বাস চালু হওয়া দরকার। এই দাবি বাস্তবায়নের জন্যগত ২৯ এপ্রিল আলীকদমে সর্বস্তরের জনগণের ব্যানারে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। বিগত শতাব্দির আশির দশকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মগাসড়কের চকরিয়া ফাঁসিয়াখালী থেকে লামা-আলীকদম পর্যন্ত ৪৪ কি সড়ক নির্মাণ করেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী’র ১৭ ইসিবি। অতিসম্প্রতি এই সড়কের সাথে কানেক্টেড হয়েছে আরো দু’টি সীমান্ত সড়ক। এর মধ্যে ১টি প্রায় শত কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের আলীকদম কুরুপাতা-পোয়ামুহরী সীমান্ত সড়ক। আরেকটি থানছি হয়ে। সুতরাং জাতীয় গুরুত্ব বিবেচনায় লামা আলীকদম সড়ক উন্নয়ন ও মানসম্মত পরিবহন চালুর দাবিটি যৌক্তিক বটে। কিন্তু এতে বরাবরই চকরিয়া কেন্দ্রিক বাস মালিক সমিতি একচ্ছত্র আধিপত্যের কাছে মানসম্মত যাত্রীসেবা জিম্মি হয়ে আছে। আন্দোলনকারী এর প্রতিবাদে এখন সোচ্ছার। আলীকদম ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার সিনিয়র শিক্ষক হায়দার আলী বলেন, “আলীকদমে মানসম্মত বাস সার্ভিস চালুর প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে চকরিয়া-লামা-আলীকদম পরিবহন মালিক সমিতি। তাদের নানা হুমকি ও বাধার কারণে স্বনামধন্য বাস কোম্পানিগুলো লামা- আলীকদমে সেবা দিতে পারছে না।”চম্পটপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা জাহানারা ফারভীন লাকী বলেন, “লামা-আলীকদম উপজেলা পর্যটন, শিক্ষা ও শিল্প ও কৃষি ক্ষেত্রে অনেক এগিয়েছে। অথচ মানসম্মত গণপরিবহনের অভাবে স্থানীয় জনগণ প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।” এসময় আলীকদম উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মাশুক ইলাহি সরকারের কাছে বিআরটিসি বাস সার্ভিস চালুর অনুরোধ জানান। মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা বলেন, লামা-আলীকদমে এর আগে বিআরটিসি বাস চালুর পর মালিক সমিতির হামলায় সার্ভিস বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে প্রশাসনকে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান তারা। আলীকদম কলেজের প্রভাষক মু. রেজাউল করিম বলেন, “নিরাপদ ও উন্নত গণপরিবহন সেবা পাওয়া জনগণের অধিকার। এটি নিশ্চিত করতে হলে প্রশাসনের কঠোর অবস্থান ও সরকারের সদিচ্ছা প্রয়োজন। ”অন্যদিকে সমাজ সেবক মু. জুলকার নাঈন, উন্নত পরিবহণ না থাকার কারণে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবী কর্মস্থলে আসতে সমস্যার কথা উল্লেখ্য করেন। এছাড়াও রোগি ও বয়স্ক ব্যাক্তিদের নানা অসুবিধার বিষয় ওঠে আসে তার বক্তব্যে। মানববন্ধনের সমন্বয়ক গ্রীণ ইনোভেশন ভলেন্টির্য়াসের উদ্যোক্তা ও আহ্বায়ক, মহিউদ্দিন বন্ধু আশাবাদ ব্যক্ত করেন, সরকারের বিভিন্ন মহলে মানববন্ধনের বিষয়ে অবগত করার মধ্য দিয়ে লামা- আলীকদম সড় উন্নয়ন ও মানসম্পন্ন গণপরিবহনের সুযোগ তৈরি হবে।মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা আলীকদম, সেনা জোন কমান্ডার, বিজিবি অধিনায়ক এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে দাবি-সম্বলিত একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন। এর কিছুদিন আগে এতদসংক্রান্ত লামা ও আলীকদম উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের সুপারিশে সরকারের সংশ্লিষ্ট ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের বরাবর স্বাক্ষরিত পত্র প্রেরণ করা হয়।