লামা সাঙ্গু মৌজা সীমানায় আলীকদমের কর্তৃত্ব, ক্ষুব্দ ম্রো জুমিয়ারা


admin প্রকাশের সময় : মে ৮, ২০২৫, ১:৩৩ অপরাহ্ন /
লামা সাঙ্গু মৌজা সীমানায় আলীকদমের কর্তৃত্ব, ক্ষুব্দ ম্রো জুমিয়ারা
প্রিন্ট করুন

লামার আলো ডেস্ক:-লামা ও আলীকদম উপজেলায় দুই মৌজা সীমানায় দখল নিয়ে বিহার পরিচালনা কমিটি ও ম্রোদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। দ্রুত সময়ে সীমানা বিরোধ নিরসন না করলে দুই পক্ষের মধ্যে দ্বন্ধ চরমাকার ধারণ করতে পারে।

লামা উপজেলার সাঙ্গু মৌজা ও আলীকদম উপজেলার তৈন মৌজা সীমান্তে সুউচ্চ ম্যারাইনতং পাহাড় অবস্থিত। এই পাহাড়টির একাংশ দুই মৌজার সীমারেখা টেনে দিয়েছে। সাঙ্গু মৌজা হেডম্যান চংপাত ম্রো ও মৌজার শত বাসিন্দাদের অভিযোগ হচ্ছে, সাঙ্গু মৌজার অংশে তাদের জুমচাষ নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন, ম্যারাইনতং জাদী পরিচালক উ:উইচারা ভিক্ষু।ম্রো জুমিয়াদেরকে সাঙ্গু মৌজার অংশে শত একর পাহাড়ে স্বাধীনভাবে জুমচাষে বাধা দিচ্ছেন এই ভান্তে। জুমের জায়গায় কলাগাছ ব্যাতিত অন্য কোনো ফলদ ও বনজ গাছ সৃজন করতে দিচ্ছেন না। ফলে ওই এলাকার পাহাড়গুলোতে মরুময় অবস্থা।পাহাড়ের কোনো জায়গায় সবুজ বৃক্ষ ছায়া নেই।

সাঙ্গু মৌজা হেডম্যান চংপাত সহ শত শত ম্রো জুমিয়ারাদেরকে এর প্রতিবাদে সোচ্চার দেখা গেছে। তাদের অভিযোগ ম্যারাইনতং পাহাড় চূড়ায় বৌদ্ধ বিহারের জন্য সাঙ্গু মৌজার অংশ থেকে দানকৃত পাঁচ একর পাহাড়ের চূড়া সমান করে সেখানে রিসোর্ট, পড হাউজ নির্মান করে পর্যটন ব্যাবসা করছেন পরিচালক উ:উইচারা ভিক্ষু। ম্রোদের দাবি হচ্ছে, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের জন্য দান করা জায়গায় বাণিজ্যিকভাবে পর্যটকদের চিত্তবিনোদনে কটেজ, পড হাউজ বানিয়ে ধর্মগুরু একজন সম্মানিত ভান্তে এভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার দরকার ছিলোনা।চংপাত হেডম্যানসহ আরো বহু ম্রো জুমিয়ারা জানান, ম্যারাইনতং বৌদ্ধ বিহার থেকে ৫/৬ শ্ গজ দূরুত্বে সাঙ্গু মৌজায় হেডম্যানের চাচার দখলীয় জায়গায় কাঠ বাঁশের একটি রিসোর্ট নির্মান করেন তারা। সম্প্রতি বিহার পরিচালক ভান্তের ঈশারায় কিছু সন্ত্রাসীমনা লোক ওই রিসোর্টটি ভেঙে দশ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নেন। এ বিষয়ে লামা থানায় অভিযোগ হয়।

অপরদিকে আলীকদম তৈন মৌজা হেডম্যান মংক্যায়ানু মার্মা, বিহার পরিচালক উ:উইচারা ভিক্ষু দাবি করেন, বিহার এলাকায় কমার্শিয়াল রিসোর্ট করায় ধর্মানুরাগী প্রতিবাদকারীরা তা ভেঙে দিয়েছেন। তারা আরো দাবি করেন, জায়গাটি সাঙ্গ মৌজার হলেও দুই মৌজার শত একর ভূমি নিয়ে ম্যারাইনতং বিহারের উন্নয়নের জন্য আগে থেকে একটি পরিকল্পনা করা আছে।অপরদিকে সাঙ্গু মৌজাস্থ রিসোর্ট ভাঙ্গার প্রতিবাদে শত শত ম্রো জুমিয়া পরিবার মনে করেন তাদেরকে ভূমি হারা করার জন্য বৈষম্যমূলক নির্যাতন ও দমন নীতি চালাচ্ছেন। ফলে চরম ক্ষোভ সৃষ্টি হয় ম্রোদের মাঝে। ম্রোদের সাথে ঘটে যাওয়া এই সব বিষয়ে প্রশাসন ও ম্রোদের সিনিয়র নেতৃবৃন্দসহ সর্ব মহলের কাছে এর প্রতিকার দাবি করেছেন ম্রো পরিবারগুলো।এইদিকে ঘটনা কি ঘটেছে কেনো ঘটেছে; এসব বিষয়ে জানতে ও পরিস্থিতি সৌহার্দপূর্ণ রাখতে ৫ মে সরেজমিন দেখতে যান লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ ম্রোদের সিনিয়র প্রতিনিধি বান্দরবান জেলা পরিষদ সদস্য খামলায় ম্রো। ওই সময় সেখানে সাঙ্গু মৌজাসহ আশপাশের মৌজা থেকে তিন শতাধিক বিভিন্ন বয়স ও পেশার ম্রো জনগন উপস্থিত হন। এ সময় শান্ত স্বভাবের ম্রো জনগন দুই মৌজার সীমানা চিহ্নিত করে শান্তিপুর্ন একটি স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রশাসন ও নেতৃবৃন্দের নিকট দাবি জানান।কিন্তু বিহার পরিচালক ক’জনের কথাবার্তায় উপস্থিত ম্রো জনগন নাখোশ হয়। এর ফলে পরিস্থিতি অনেকটা উত্তেজনাকর হয়ে উঠলে, লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সীমানা চিহ্নিত করার আশ্বাস দেন। ফলে তাৎক্ষনিক পরিবেশ শান্ত হয়।এ সময় লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সবার উদ্দেশ্য বলেন, এই জমি গুলো নিয়ে কেউ বিরোধ বা উত্তেজনাকর পরিবেশ সৃষ্টি করবেন না। তিনি আরো বলেন, সাঙ্গু মৌজা থেকে বিহারের জন্য যে পাঁচ একর জায়গা দান করা হয়েছে; অচিরেই সেটা পরিমাপ করে দেয়া হবে, এর আগে সেখানে কোনো কার্যক্রম করবেন না। তিনি বলেন, জেলা প্রশাসনের সহযোগিতা নিয়ে এর সমাধান করা হবে।এসময় উপস্থিত ছিলেন লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ তোফাজ্জল হোসেন, আলীকদম থানার অফিসার ইনচার্জারসহ তাদের সঙ্গীয় ফোর্স, সাংবাদিকবৃন্দ প্রমুখ। এছাড়াও বান্দরবান ম্রো স্টুডেন্ট এসোসিয়েশন এর সভাপতি তনয়া ম্রো, লামা ও আলীকদমের ম্রো ছাত্র নেতৃবৃন্দসহ দুই উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।