লামায় অরণ্য ঘেরা ‘অনন্য রিসোর্ট’ পর্যটন শিল্পে সম্ভাবনার হাতছানি


admin প্রকাশের সময় : ফেব্রুয়ারী ১০, ২০২৩, ৫:২৫ পূর্বাহ্ন /
লামায় অরণ্য ঘেরা ‘অনন্য রিসোর্ট’ পর্যটন শিল্পে সম্ভাবনার হাতছানি
প্রিন্ট করুন

লামা অনন্য রিসোর্টের পথে তিন শ্ মিটার ইটের সড়ক আর কয়েকটি খুঁটি বসিয়ে একটি বিদ্যুৎ লাইন সংযোজিত হলে পাল্টে দিতে পারে দৃশ্যপট।

সেখানে জেনরেটরের শব্দেও নানা সুর ব্যঞ্জনা রয়েছে। নিস্তব্দ প্রকৃতির মাঝে অকটেন চালিত জেনারেট শব্দে একটি প্রত্যাশার সুর ধ্বনিত হয়, গুরগুর শব্দ ব্যঞ্জণায় রনিত হয় দ্রোহের আর্তনাদ, আকাঙ্খার সুর চিৎকার।

নুনারঝিরি মসজিদের পাশে বিদ্যুত খুঁটি থেকে ২৫০ মিটার দূরত্বে অনন্য পর্যটন কটেজ। রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ সে পথে ইট স্থাপন ও বিদ্যুত সংযোগের জন্য আবেদন করেছেন।

কিন্তু গতানুগতিকতা উতরিয়ে এর গুরুত্বানুধ্বাবন সময়ের ব্যপার….

পার্বত্য লামায় রয়েছে পর্যটনের অপার সম্ভাবনা। ছোট ছোট পরিকল্পনা আর মাঝারি বিনিয়োগেও ইতিবাচক সাড়া মিলতে পারে এখানকার জুম পাহাড়ের ঢালুতে।

পাহাড় প্রকৃতিকে তার নিজের মতন রেখেই এখানে গড়ে তোলা যায় নান্দনিক যত সব পর্যটন স্পট।

এমন স্বপ্ন প্রত্যাশা নিয়ে এই প্রথম লামায় গড়ে উঠেছে পর্যটন রিসোর্ট। এর নাম করণ করা হয়েছে ‘অনন্য রিসোর্ট’ সত্যেই এক অনন্য প্রয়াস।

নির্জন পাহাড়ের অরণ্য ঘেরা পরিবেশে গড়ে তোলা কটেজগুলোর কারুকার্য বিবেচনায় আসলেই অনন্য।

লামা অনন্য রিসোর্টের স্বপ্নদ্রষ্টা এবং রুপকার যিনি তিনি হলেন, পেশায় একজন ডাক্তার। নাম নুর মোহাম্মদ, মেডিকেল অফিসার লামা সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।

লামা পৌর ভবন থেকে মাত্র সোয়া কিলো মিটারের মধ্যে নুনারঝিরি ঝর্ণা দ্বার ঘেঁষে এই রিসোর্টটি মুগ্ধতায় অনন্য।

সাম্প্রতিককালে এই পর্যটন পয়েন্টটি দেশের বহু পর্যটকদের নজর কেটেছে। দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে ছুটে আসেন ভ্রমন পিপাসুরা।

পর্বতে পর্যটনের মূল উপকরণ হল সবুজ পাহাড় ঘেরা প্রকৃতি। দৃষ্টি সীমায় যা কিছু ধরা দেয় যেন মনে হয়, প্রকৃতি নিজ থেকে সেজে বসে আছে।

এখানে প্রকৃতির রুপ বদলানোর খেলা পর্যটকদের কাছে ধরা দেয় পরম মমতায়। শীতে কুয়াশার নরম চাদর আর বর্ষায় সাদা মেঘের হীমেল পরস আগন্তকদের উদ্বেলিত করে।

সাম্প্রতিক দশকে যোগাযোগ সেক্টরে উন্নতির ফলে এখানকার পাহাড়ের চুড়ায় বা ঢালুতে আকর্ষণীয় স্থানে পর্যটন সুবিধা নিশ্চিত করে এই শিল্পের বিকাশ ঘটানো যেতে পারে।

লামা অনন্য রিসোর্টটিতে যে সব বিশেষত্ব রয়েছে, তার মধ্যে নির্বিঘ্ন নিরাপত্তা অন্যতম। লোকালয়ের কাছাকাছি, কিন্তু মনে হবে শহর গ্রাম ছেড়ে বহুদূরের নির্জন নিস্তব্ধ কোনো কোনো এক অরণ্য।

রিসোর্টের প্রাকৃতিক পরিবেশটা অনুভূত হয়, যেন গহীন অরণ্যে এর অবস্থান।

বস্তুত এই স্থানটি শহর অদূরে নিভৃতে একটি সুউচ্চ পাহাড়ের ঢালুতে অবস্থিত।

এই রিসোর্টে মোট চারটি কটেজ রয়েছে। প্রতিটি কক্ষে ২/৩ জন থাকতে পারবেন। রুম ভাড়া ৫ হাজার টাকা। শুক্রশনিবার ডিসকাউন্ট থাকে।

যোগাযোগ: অনন্য রিসোর্টের নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থা রয়েছে। লামা সরকারি মাতামহুরী কলেজ গেইট থেকে শহরমুখী এক শ্ ফুট এসে হাতের বাঁয়ে নুনারঝিরি গ্রামের সড়ক।

ওই সড়ক দিয়ে পৌনে এক কিলোমিটার মেঠো পথ অতিক্রম করে ডান দিকে নুনারঝিরি মসজিদ রেখে আরেকটি পথ।

খানিকটা একেঁবেকেঁ ওই পথ বেয়ে প্রায় আড়াই শ্ মিটার গেলেই দৃশ্য পটে ধরাদিবে এক নিসিম অনন্যতা। আগন্তকদের অভ্যার্থনা ঘর ‘অনন্য রিসোর্টের’ নির্মান শৈলির নান্দনিক কারুকার্য্যে প্রথম কটেজ-প্রবেশদ্বার।

অনন্য রিসোর্ট, সবচেয়ে সুন্দর ও সুবিধাপ্রধান রিসোর্ট এটি। কাছে ও দূরদীগন্তের চমৎকার ভিও উপভোগ করা যায় এখানে দোলনায় দোলে।

সকাল দুপুর বিকেল কিংবা রাতে পশুপাখির নানান সুর ব্যাঞ্জণা। বনের ফুল প্রকৃতির নৃত্যের দৃশ্য দেখে, পাখির কুহুরব শব্দ শুনার চমৎকার সুযোগ রয়েছে রিসোর্টে।

যদি সবুজ প্রকৃতির কোলাহল মুক্ত রুপ উপভোগ করতে চান, তবে লামার অনন্য রিসোর্টে যান।

অনন্য রিসোর্টে আপনার রুচি সম্মত খাবার অর্ডার করে কম খরচে খেতে পারেন। নিজেরা নিজেদের মতন রান্না বা রাতে বারবিকিউও করতে পারেন।

সব মিলিয়ে অনন্য সব আয়োজন রয়েছে লামা অনন্য রিসোর্টে।