লামায় সরই ইউনিয়নে মব সৃষ্টি করে জায়গা দখল ও বাগান কর্তন


admin প্রকাশের সময় : জানুয়ারী ২৮, ২০২৬, ৪:২৮ অপরাহ্ন /
লামায় সরই ইউনিয়নে মব সৃষ্টি করে জায়গা দখল ও বাগান কর্তন
প্রিন্ট করুন

লামার আলো ডেস্ক:-

লামা উপজেলা সরই ইউনিয়নের ডলুছড়ি মৌজায় মব সৃষ্টি করে বাগান দখল, চাঁদা দাবি ও গাছগাছালি কেটে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারী চট্টগ্রাম জেলার খোরশেদ আলম চৌধুরী, পিতা- হাজী বেলায়েত হোসেন চৌধুরীর জানান, সংঘবদ্ধ একদল চাঁদাবাজ ও ভূমিদস্যু চক্র তার বাগান দখল ও গাছগাছালি কেটে নিচ্ছে। স্থানীয় আলী হোসন গংয়ের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ করা হয়। অভিযোগে প্রকাশ জহিরুল ইসলাম, আলী হোসন, আলাউদ্দিন, নুরুল হকগং বিগত জুলাই বিপ্লবের পর জায়গা দখল করেন। মব সৃষ্টি করে সেখানে ঘর নির্মাণ ও ফলদ ও বনজ গাছ উজাড় করতে থাকে। এ বিষয়ে লামা সিনিয় জুড়িশিয়াল আদালত ও নির্বাহী আদালতে মামলা করেছেন খোরশেদ আলম চৌধুরী। মামলায় উল্লেখ করা হয়, মব সৃষ্টিকারীরা পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছে। দাবিকৃত টাকা না পেয়ে অভিযুক্তরা, খোরশেদ আলম চৌধুরীর ক্রয়কৃত ও মালিকানাধীন ৩০৩নং ডলুছড়ি মৌজায় আর/৩৭৭নং হোল্ডিং এ স্থিত ফলজ বাগান কেটে নিচ্ছে। এসময় তারা বাগানের কেয়ারটেকারকে মারধর করে তাড়িয়ে দেয়। বিগত ১০ জুলাই/২৪ এ তারা মব সৃষ্টি করে বাগানের কর্মচারীদের উপর হামলা করে। এর পর ২৪ সালের আগস্টের ৬ তারিখ আবারো দলবল নিয়ে হামলা চালায় আলী হোসন গং। এভাবে একের পর এক হামলা করে বাগানটি দখলে রাখার চেষ্টা করে। অতিসম্প্রতি বাগান থেকে সেগুন গামারসহ বড় বড় বৃক্ষরাজি কেটে নিয়ে যাচ্ছে। ২৭ জানুয়ারি স্থানীয় সংবাদ কর্মিরা সরেজমিন গিয়ে গাছ কাটার দৃশ্য দেখতে পায়। এ সময় অভিযুক্ত আলী হোসেন ও তার পিতা নুরুল হক ও আলাউদ্দিন জানান, “জায়গাটি প্রকৃত মালিক আমরা। ১৯৯৬ সালে ৩৭৭ নং হোল্ডিংয়ের ৫ একর জায়গা খোরশেদ আলম চৌধুরী আমাদের থেকে জায়গাটি কেনার প্রস্তাব দিলে আমরা বিক্রির জন্য সম্মত হই। তৎসময়ে খোরশেদ আলম চৌধুরী আমাদের নগদ দুই হাজার টাকা দেয় এবং দেড় লাখ টাকার একটি ব্যাংক চেক প্রদান করে বায়নানামা দলিল সম্পাদন করে জায়গায় দখলে যায়। তার কিছু দিন পর ব্যাংকে চেক নিয়ে টাকা তুলতে গেলে ব্যাংক কেশিয়ার ওই একাউন্টে টাকা নেই বলে জানান। তাৎক্ষণিক আমরা চেকটি নিয়ে খোরশেদ আলম চৌধুরীর নিকট গেলে তিনি চেকটি নিয়ে নেয় এবং আমাদেরকে পরবর্তী নগদে টাকা পরিশোধ করার আশ্বাস দেয়। এর পর থেকে আমরা সেই টাকা আর পাই নাই।” নুরুল হক গং আরো জানান, “খোরশেদ আলম চৌধুরী প্রভাবশালী আওয়ামী লীগের নেতা হওয়ায় আমারা তার সাথে বিবাদে জড়ানোর সাহস পাইনি। তবে সে বিগত ২০১৭ সালে উক্ত জায়গাটি রেজিস্ট্রি করার জন্য আবেদন করলে আমরা আপত্তি প্রদান করি। এর পর তিনি আমাদের জন্য প্রতারণার মামলা করেন। মামলায় স্বাক্ষী হাজির করতে না পারায় বিজ্ঞ আদালত কর্তৃক ওই মামলা খারিজ করে দেন। তাদের সাথে কোনোভাবে পেরে উঠতে না পারায়, বিগত ২৪’র জুলাই মাসে আমরা আমাদের জায়গা দখলে নিয়েছি।”

অপরদিকে খোরশেদ আলম চৌধুরী জানান, তাদের কাছ থেকে নগদ টাকায় জায়গাটি ক্রয় করে সেখানে বিগত তিন দশক আগে লিচু বাগান ও বনজ বাগান সৃজনসহ স্থাপনা নির্মাণ করে আমার নির্বিঘ্ন দখলে রয়েছি। জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তীতে মব সৃষ্টি করে নুরুল হক গং আমার জায়গা থেকে কর্মচারী/ম্যানেজার থেকে ৫ লাখ টাকা দাবি করে। টাকা না দেয়ায় মারধর করে কর্মচারীদেরকে তাড়িয়ে দিয়ে গাছগাছালি লুট করে নিচ্ছে। সম্প্রতি আমার বাগান থেকে গাছ কেটে নেয়ার সময় ডলুছড়ি রেঞ্জ কর্তৃপক্ষ কাঠসহ একটি পিকআপ গাড়ি জব্দ করেন।”

সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখাযায়, ওই জায়গায় একটি নতুন পাঞ্জেগানা মসজিদ ও একটি বড় লিচু বাগানের ভিতর ছোট দুইটি টিনের ঘর ও আধাপাকা পুরাতন একটি গোলঘর রয়েছে। স্থানীয় সূত্র জানিয়েছেন সেখানে খোরশেদ আলম চৌধুরী ফলদ ও বনজ বাগান সৃজন করে কর্মচারী নিয়োগ দিয়ে তিন দশক ধরে দখলে ছিলো। প্রসঙ্গত: জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে সরই ইউনিয়নের ডলুছড়ি মৌজায় মব সৃষ্টি করে ফেয়ারি এগ্রোর কমপ্লেক্সে শত একর বাগানের গাছগাছালি, স্থাপনা, গরু মহিষ, ছাগল, মৎস্য খামার, হাঁস মোরগসহ প্রায় ১০ কোটার সম্পদ লুট করে নেয় একটি চিহ্নিত চক্র।