লামায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট আবাসিক প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে জনরোষ


admin প্রকাশের সময় : জুলাই ২৯, ২০২৫, ৩:১৫ অপরাহ্ন /
লামায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট আবাসিক প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে জনরোষ
প্রিন্ট করুন

লামার আলো ডেস্ক:-

লামায় ভয়াবহ লোডশেডিং ও ভূতুড়ে বিলসহ আবাসিক প্রকৌশীর নানা অনিয়মের বিরুদ্ধে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) সকাল ১১টায় লামা ৩৩/১১ কেভি বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্রের আবাসিক প্রকৌশলীর নানান অনিয়ম দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরেন। লামা উপজেলা চত্বরে, সর্বস্তর লামাবাসির উদ্যোগে মানববন্ধনে আবাসিক প্রকৌশলীর শাস্তি, অপসারণ দাবি করেন আন্দোলনকারীরা।

বর্তমান আবাসিক প্রকৌশলী লামায় যোগদানের পর থেকে, তার দুরাচার, দুর্ণীতি, বিদ্যুৎ সরবরাহে অব্যবস্থাপনায় জনমনে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

এই প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগ উঠে আসছে। এর মধ্যে; গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায়, সরকারি নিয়ম উপেক্ষা মিটার বরাদ্ধ, পরিবর্তন, লাইন সংযোগ ইত্যাদি কাজে মনগড়া অর্থ করায় স্থানীয় জনগণের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও হতাশার জন্ম দিয়েছে।

মানববন্ধনে এই প্রকৌশলীর কিছু দুর্নীতির তথ্য তুলে ধরে বক্তারা বলেন, সরকার নির্ধারিত লোড পরিবর্তনের ফি মাত্র ১৪০ টাকা, কিন্তু প্রকৌশলীর নির্দেশে গ্রাহকদের কাছ থেকে আদায় করা হয় এক হাজার টাকা পর্যন্ত। কোনো রসিদ ছাড়াই এই অর্থ নেওয়া হয়। মিটার পরিবর্তনের সরকারি ফি ৪১৪ টাকা; গ্রাহকদের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে ৭০০ টাকা। নতুন মিটার সংযোগসহ যাবতীয় খরচ মিলে মোট খরচ ৬,৫০০ টাকার স্থলে, আদায় করা হচ্ছে ৯ হাজার টাকা পর্যন্ত। এটি জনগণের জন্য একপ্রকার জুলুমে পরিণত হয়েছে।

গ্রাহকের নামে জরিমানা দেখিয়ে সেই টাকাও আত্মসাৎ করা হয়। কিছুদিন পর আবার গ্রাহক পুনরায় জরিমানার সম্মুখীন হন। গাছ লতাপাতা কাটার জন্য প্রতি মাসে ৪০ হাজার টাকা করে ইমপ্রেস ফান্ড (সরকারি অগ্রিম খরচ) নেন প্রকৌশলী। কিন্তু বাস্তবে বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয় না করে আত্মসাত করেন। মিটার পরিবর্তনের সময় গ্রাহকের কাছ থেকে জোরপূর্বক ৫ শ্ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়। না দিলে মিটার পরিবর্তন স্থগিত অথবা নানা অজুহাত দেখিয়ে হয়রানি করা হয়।

কোনো গ্রাহকের বিল বা লোডসংক্রান্ত সমস্যা হলে, ওই গ্রাহকের বিরুদ্ধ মামলা ও কার্ড মিটার লাগাল ভয় দেখিয়ে গ্রাহকদেরকে মানসিকভাবে ভেঙে বিপর্যস্ত করে। নতুন বিদ্যুৎ লাইন স্থাপন স্থানীয় জনগণ থেকে লাখ টাকা উৎকোচ নেয়। এর সর্বশেষ সংযোজন; লামা সদর ইউপির বেগুনঝিরি নামক গ্রামে লাইন সংযোগ দিয়ে মানুষ থেকে এক লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছে।

আন্দোলনকারীরা আরো বরেন, এ প্রকৌশলী এর আগের স্টেশন কক্সবাজার রামু উপজেলায় থাকাকালে বহু দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছিলেন। এহেন দুর্ণীতি পরায়ন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এখনও কোনো তদন্ত বা প্রশাসনিক ব্যবস্থা না নেওয়ার কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীলতার প্রশ্ন তোলেন আন্দোলনকারীরা।

তদন্ত সাপেক্ষে অবিলম্বে লামা আবাসিক প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে শাস্তি ও তার বদলির দাবি জানানো হয়। মানববন্ধনে বক্তব্য দেন মোঃ কামরুজ্জামান, ইব্রাহীম খলিল মিজান, শামচুল হক, আসিফ জোয়ারদার মোঃ দুলাল প্রমূখ।