
লামার আলো ডেস্ক:-
বাবা জমি বিক্রি বাবদ টাকা নিয়ে রেজিস্ট্রি দেয়ার আগে মৃত্যু বরণ করেন। সন্তানরা ওই জমি মব সৃষ্টি করে আবার দখল চেষ্টা ও চাঁদা দাবি করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় লামা উপজেলা ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ভুক্তভোগী প্রজা মোঃ ইখতেহার সেলিম আদালতে মামলা করেছেন।
প্রকাশ, ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের বগাইছড়ি, কাটাবিল, ৩নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা আবুল কালাম (কালু মিয়া) জীবদ্দশায় তার নামীয় ২৮৬নং ফাঁসিয়াখালী মৌজায় হোল্ডিং নং আর/১০৮ এর অংশ থেকে বিগত ৩০/১০/২০০৫ইং ও বিভিন্ন তারিখে অরেজিস্ট্রিকৃত বিক্রয় দলিল মূলে স্থানীয় কয়েকজনের নিকট দখল হস্তান্তর করেন। এর মধ্যে মোঃ ইখতেহার সেলিম বিশ শতক ও তার ভাই মো: ইব্রাহিম এর নামে বিশ শতকসহ মোট চল্লিশ শতক জায়গা বিক্রয় ও দখল হস্তান্তর করেন। এর পর জমিতে ক্রেতাগন বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ ও বনজ গাছের বাগান সৃজন করে ভোগ দখলে রয়েছেন।
এদিকে তিন দশক পরে এসে বিক্রেতার ছেলে ও পরিবারের লোকেরা দখলীয় ক্রেতাদের কাছে দুই লক্ষ টাকা চাঁদা দাবী করে। চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় জায়গার গাছপালা কেটে নেয়া জবর দখল করে নিতে মারাত্মক হামলা মৃত্যুর ভয়ভীতি দেখাচ্ছে মৃত কালুর ছেলে জীবন গং।
বিষয়টি নিয়ে জমির দখলীয় ক্রেতাগন বিগত ২৪/০৭/২০২৪ইং তারিখে ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদের দ্বারস্থ হয়। এলাকায় শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য গত ০৪/০৮/২০২৪ইং তারিখ পরিষদে শালিসি বোর্ড একটি সিদ্ধান্ত দেয়।
মোঃ ইখতেহার সেলিম ও ইব্রাহীমের ক্রয়কৃত দখলীয় জায়গায়; মোঃ নুর হোসেন জীবন (পাঙ্গাস), মোঃ শফি আলম, তারেক, জাহানারা ও সুফিয়া বেগমকে না যওয়ার জন্য পরিষদে সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু তারা কোনো সিন্ধান্ত তোয়াক্কা না করে জবর দখলের পায়তারা, অব্যাহত চাঁদার দাবীতে জায়গার গাছপালা কর্তনের অপচেষ্টা করছে।
অভিযোগ সূত্রে জানাযায়, দুই লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে বিগত ০৯/০৫/২০২৫ তারিখে ইখতেহার সেলিমের সৃজিত ৩০ টি বড় বৃক্ষ (যার মুল্য দেড় লক্ষ টাকা) জোরপূর্বক কেটে ফেলে। বাঁধা দিতে চায়লে ইখতেহারকে এলোপাতাড়ি প্রহার করে প্রাণ নাশের চেষ্টা চালায়। এর পরে সন্ধ্যায় কর্তনকৃত গাছগুলো পরিবহন করে নিয়ে যায়।
মামলার আর্জিতে উল্লেখ করা হয়, আবুল কালাম প্রকাশ কালু মিয়া জীবদ্দশায় তার বিক্রিত জায়গা রেজিস্ট্রি করিয়ে দিবে বলে আশ্বস্থ্য করলেও মৃত্যুর পর স্থানীয় কুচক্রী মহলের ইন্দনে বিশ্বাস ভঙ্গ করে ছেলে নুর হোসেন। বর্তমানে জায়গার মুল্য বৃদ্ধি ও গাছগাছালিতে সমৃদ্ধ হয়। সম্প্রতি নুর হোসেন গং লোভে পড়ে চাঁদা দাবি, হামলা চালিয়ে বৃক্ষরাজি লুটতরাজ, মিথ্যা অজুহাতে জায়গার ক্রয়সূত্রে দখলীয় মালিকদেরকে মামলা করার হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ সূত্রে জানাগেছে।
এছাড়া ভুক্তভোগী মোঃ মঞ্জুর আলম সাংবাদিকদেরকে জানান, সে বিগত ৫-৮-২০০৮ সালে আবুল কালাম প্রকাশ কালু মিয়ার কাছ থেকে জীবদ্দশায় আর/১০৮ নং হোল্ডিংয়ের আন্দর ৪০ শতক জমি ক্রয় করে দখল বুজে নেয়। খোকন ভট্টাচার্য জানায়, একই হোল্ডিং থেকে সেও ১৭-৩-২০০৬ সালে এক একর বিশ শতক জায়গা ক্রয় ও দখল বুজে নেয়। এভাবে কালুমিয়া জীবিত অবস্থায় অর্থ সংকটে পড়ে বি়ভিন্ন জনের নিকট চার একর জমি সম্পুর্নটাই আনরেজিস্ট্রি বিক্রয় চুক্তি দলিলমূলে বিক্রয় হস্তান্তর করে দেয়। এদিকে তার ছেলে নুর হোসেন জীবন প্রতারনা করে কালু মিয়ার ১০৮ নং হোল্ডিং থেকে দুই একর জায়গা নিজের নামে বায়নানামা করে নেয় বলে জানাযায়।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত নুর হোসেন জীবন সাংবাদিকদেরকে জানান, তার বাবা টাকা কর্জ নিয়ে স্ট্যাম্প দিয়েছিল, পরে তারা জমি বিক্রির দলিল বানায়। সে চাঁদা দাবিও গাছ কর্তনের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, একটি চলচল রাস্তা নিয়ে তাদের সাথে আমার বিরোধ। যা ইউনিয়ন পরিষদ সমাধান করার চেষ্টা করেন। কিন্তু ইখতেহার গং তা অমান্য করে চলাচল রাস্তা দিচ্ছেন না উল্টো তার বিরুদ্ধেই অভিযোগ করে চলছে। জীবন জানায়, সেও আদালতে মামলা করবেন।
স্থানীয়রা জানায় ‘কালু মিয়ার ছেলে জীবন কর্মখাতিরে এলাকার বাহিরে খাকতেন। বিগত জুলাই বিপ্লবের পর সে এলাকায় থাকতে শুরু করে এবং একটি রাজনৈতিক দলের ছায়ায় থেকে অসহায়দের উপর মব করার চেষ্টা করছে।
আপনার মতামত লিখুন :