
লামার আলো ডেস্ক:-লামা উপজেলার সরই, ডলুছড়ি মৌজায় ভূমির যতেষ্ট অপব্যবহার হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের কর্পোরেট পলিসির কাছে হেরে যাচ্ছে জুম নির্ভর পরিবারগুলো।
কোয়ান্টাম কসমো স্কুল এন্ড কলেজের নামে হাজার হাজার একর ভূমি দখল ও মালিকানা কিভাবে নিয়েছেন; এমন প্রশ্ন স্থানীয়দের। ১১ জানুয়ারি ১৯৬৭ সালের স্মারক নং: ৯৫ (৫০০)/জি, ১নং স্থায়ী আদেশ জারি করে তৎকালীন সরকার পাহাড়ে বনজ দ্রব্য ও জমির অপব্যবহার রোধ এবং নিয়মানুযায়ী জুম চাষের লক্ষ্যে যেসব নীতি করে দিয়েছেন, তার প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করা হচ্ছে।
ফলেভবিষ্যৎ প্রজন্মের জুমচাষের জন্য ডলুছড়ি মৌজায় কোনো ভূমি প্রয়োজন আছে কিনা; তাও জানেন না সেখানকার পরিবারগুলো।পূর্ব পাকিস্তান সরকার ডেপুটি কমিশনার কার্যালয়, পার্বত্য চট্টগ্রাম কর্তৃক ১৯৬৭ সালের ১নং স্থায়ী আদেশে বনজ দ্রব্য ও জমির অপব্যবহার রোধ এবং নিয়মানুযায়ী জুম চাষের লক্ষ্যে নীতি করে দেয়। এসব নীতিগুলো হচ্ছে; ১. মৌজা হেডম্যান গ্রামের কার্বারীর সহায়তায় প্রত্যেক বছর তার এলাকায় জুম চাষের জন্য কিছু জমি চিহ্নিত করবেন এবং প্রত্যেক জুমিয়াকে উক্ত জমি ভাগ করে দেবেন। ২. প্রয়োজনমত প্রত্যেক ব্লকে ফলবাগানের জন্য জমি বরাদ্দ রাখা হবে। ৩. হেডম্যান প্রত্যেক মৌজায় জুম চাষের জমি এবং ফল বাগানের জমি আলাদাভাবে চিহ্নিত করে রাখবেন। মৌজায় বাগানের জন্য নির্ধারিত জমিতে জুমিয়ারা ইচ্ছা করলে ফলবাগান করতে পারবেন।৪. আগুনের ক্ষতি এবং বিশৃঙ্খলা অবস্থা পরিহার করার জন্য প্রতিবছর ৩০শে চৈত্রের মধ্যে প্রত্যেক গ্রামে গ্রামের কার্বারী কর্তৃক নির্ধারিত একটি নির্দিষ্ট দিনে জুমচাষের জন্য বরাদ্দকৃত জমিতে আগুন দেওয়ার জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মৌজা এলাকাধীন জমিতে জুম পোড়ানো যাতে সর্বোচ্চ (০৭) সাত দিনের মধ্যে শেষ হয় এই বিষয়টি প্রত্যেক মৌজার হেডম্যান লক্ষ্য রাখবেন।৫. হেডম্যান, কার্বারী এবং গ্রামবাসী জুমের আগুন নিয়ন্ত্রণের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন যাতে জুম পোড়ানোর আগুন জুমের জন্য নির্ধারিত এলাকার বাইরে ছড়িয়ে না পড়ে। দায়িত্বে অবহেলা বা অন্য যে কোন কারণে যদি কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হয় তাহলে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য থাকবেন। ৬. লক্ষ্য করা গেছে, জুমিয়ারা তাদের চাষের ক্ষমতার বাইরে বড় জুম পরিষ্কার করে থাকেন। এটা জুম ভূমি এবং শ্রমের অপচয় ব্যতীত আর কিছুই নয়। এ ধরনের অপচয় রোধ করার জন্য প্রত্যেক মৌজার হেডম্যান জুমিয়াদের অর্থনৈতিক অবস্থা, পরিবারে সদস্য সংখ্যা এবং জুম গোলাতে কি পরিমাণ ধান বীজ জমা আছে সেদিকে লক্ষ্য রেখে জুমিয়াদের জন্য জুম চাষের জমি নির্ধারণ করতে পারেন।৭. জুম চাষে সার প্রয়োগ উৎসাহিত করতে হবে। প্রত্যেক মৌজার হেডম্যান তার এলাকার স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তার সাথে পরামর্শ করে জমিতে বেশি ফসল পাওয়ার জন্য সার ব্যবহারে জুমিয়াদের উদ্বুদ্ধ করবেন। পার্বত্য লামা উপজেলার ১৮টি মৌজায় কোথাও এই নীতি বাস্তবায়িত আদৌ হচ্ছে কি না, কারো জানা নেই। পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর খাদ্য চাহিদা পুরণ করে স্বাভাবিক জীবন যাপনের জন্য সরকারের আদেশে বিধিবিধানের কানাকড়িও মানা হচ্ছে না, উপজেলার সরই ইউনিয়নের ডলুছড়ি মৌজায়। সেখানে হাজার হাজার একর খাস পতিত ভূমি মৌজা হেডম্যানের রিপোর্টে দখল স্বত্ত্ববান হয়ে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের লোকদের কাছে হস্তান্তর
করেন। এই অবৈধ পক্রিয়াকে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের সংশ্লিষ্টরা, তাদের কর্পোরেট দালালদের মাধ্যমে বৈধ করে নিচ্ছেন। জানাযায়, পার্বত্য অঞ্চলে পুনর্বাসিত পরিবারদেরকে রিহেবিলিটেশন বন্দোবস্তি দেয় সরকার। সরকার কর্তৃক প্রদত্ত ওই বন্দোবস্তির সার নাম হচ্ছে ‘আর হোল্ডিং’। বিগত শতকের আশির দশকে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ভূমিহীন কয়েক হাজার পরিবার
রিহেবিলিটেশন বন্দোবস্তি প্রাপ্ত হয়। তৎকালিন সময়ে দূর্গম যোগাযোগ হেতু, ম্যালেরিয়া রোগ ও সশস্ত্র পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের উৎপাতে বহুমানুষ পার্বত্য লামা ছেড়ে চলে যায়। চলে যাওয়া ওইসব মানুষের নামে রেকর্ডীয় ভূমির কাগজ কিনে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের লোকেরা শহিদুল ইসলাম কথিত শহিদ আল বোখারীর নামে বিক্রি হস্তান্তর দলিল সৃজন করেন। এ ভাবে হাজার হাজার একর পাহাড় দখল করে নিয়ে সেখানে পরিবেশ ধ্বংস করে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করেছেন। ওই এলাকায় দৃষ্টি সীমা জুড়ে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের ভূমি। যার ফলে পাহাড়ি জুম নির্ভর পরিবারের জুম চাষের জমি নেই বললেই চলে।
আপনার মতামত লিখুন :