লামায় জোতের কাঠ পরিবহন বন্ধ, ক্ষোভে ফুঁসে উঠছেন শ্রমিকরা, অদক্ষ বন কর্মকর্তার বদলির দাবি


admin প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৫, ১২:০৯ অপরাহ্ন /
লামায় জোতের কাঠ পরিবহন বন্ধ, ক্ষোভে ফুঁসে উঠছেন শ্রমিকরা, অদক্ষ বন কর্মকর্তার বদলির দাবি
প্রিন্ট করুন

লামার আলো ডেস্ক:

‘লামা থেকে বিভাগীয় বন কার্যালয় সরিয়ে নাও’ না হয় ‘অদক্ষ নির্লিপ্ত বন কর্মকর্তাকে সরিয়ে দাও’ ‘জোতের বৈধ কার্যক্রম চালু কর’। এরকম স্লোগান দিয়ে কাঠ কেন্দ্রিক শ্রমিক ও জোত মালিকরা আন্দোলনে নামার ঈঙ্গিত মিলছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জোত মালিক জানিয়েছেন, তারা আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। লামা-আলীকদম ও নাইক্ষ্যংছড়ি; এই তিন উপজেলার জোত মালিক, কাঠ ও পরিবহন শ্রমিকরা আন্দোলনে যুক্ত হবেন বলে জানাযায়। বাগান মালিকরা জানান, এতে আইন শৃঙ্খলার অবনতি হলে লামা বন বিভাগের ডিএফও এবং ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষ দায়িত্ব এড়াতে পারবেন না। কারণ লামা বন বিভাগে একজন অদক্ষ বন কর্মকর্তা জোতের কার্যক্রম বন্ধ রেখে নিজের চাকরি বাঁচানোর চেষ্টা করছেন। জানাযায়, লামা ডিএফও’র এল পিআর এর সময় সন্নিকটে। চাকরির শেষ সময়টাই এই কর্মকর্তা নিজেকে সাধু হিসেবে প্রমান করতে, জোতের কাঠ পরিবহনের অনুমতি দিচ্ছেন না। এর ফলে সরকারের ট্রানজিট আইন অমান্য করে তিন উপজেলায় সংকট সৃষ্টি করা হয়েছে। লামার মতন একটি গুরুত্বপূর্ণ বন ডিভিশনে এরকম অদক্ষ, নির্লিপ্ত কর্মকর্তার বদলির দাবিতে প্রয়োজনে আন্দোলনে নামার কথা জানান জোত মালিকরা।
লামার এক ব্যবসায়ী ও জোত মালিক জানান, জোতের কাঠ পরিবহন বাজারজাত বন্ধের হেতু কি সিস্টেম ঘাটতি, নাকি লামা ডিএফও’র অদক্ষতা(?)। অনেকেই আবার উপর মহলকে দায়ি করছেন। নেতৃস্থানীয়রা দাবি করেন, লামা-আলীকদম ও নাইক্ষ্যংছড়ি পাহাড়ি এই তিন উপজেলায় ব্যাক্তি মালিকানাধীন ফ্রি জোত পারমিটের গাছ-কাঠ পরিবহন বাজারজাত বন্ধ রেখে বন বিভাগ, সরকারের ট্রানজিট আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করছেন।

এর ফলে কাঠ কেন্দ্রিক জীবীকা নির্ভর বাগান মালিক ও হাজার হাজার শ্রমিকরা দৈন্যদশায় দিন কাটাচ্ছেন। লাখ লাখ টাকা লোকসানে পড়েছে ব্যসায়ীরাও। জোত মালিক ও কাঠ ব্যসায়ীরা প্রধান বন সংরক্ষক ও চট্টগ্রাম আঞ্চলিক বন সংরক্ষকসহ সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরের দ্বারেদ্বারে ঘুরেও কোনো সুরাহা পাচ্ছেন না। লামা ছাড়াও বান্দরবান জেলায় আরো দু’টি বন বিভাগ আছে। কিন্তু সেগুলোতে জোতের কাঠ পরিবহনে কোনো বিপত্তি নেই। প্রতিদিন বান্দরবান থেকে ৩০/৪০ গাড়ি জোতের কাঠ ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরে বাজারজাতকরণ হচ্ছে। অপরদিকে লামা বন বিভাগে বিগত টানা ৫ মাস ধরে কেনো জোতের কাঠ পরিবহন বাজারজাত বন্ধ করে রেখেছেন (!)। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্যবসায়ী দাবি করেন, লামা বন বিভাগ নিজেদের অপকর্ম ডাকতে পাবলিকের জোতের কাঠ পরিবহন বন্ধ রেখেছে। লামার বর্তমান ডিএফও মোস্তাফিজুর রহমান যোগদানের পর থেকে এই জটিলতা তীব্র রুপ ধারণ করেছে বলে সবাই মনে করেন। যে কোনো সময় বন বিভাগের অদক্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে লামায় গনরোষের বিস্ফোরণ হতে পারে।
স্লোগান হতে পারে ‘লামা থেকে বিভাগীয় বন কার্যালয় না হয় অদক্ষ নির্লিপ্ত বন কর্মকর্তাকে সরিয়ে নিন’। আন্দোলন হলে আইন শৃঙ্খলার অবনতি ঘটার আশঙ্কা আছে। এ ব্যাপারে জানতে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা লামাকে একাধিকবার ফোন করা হয় কিন্তু কল রিসিভ না করায় এই কর্মকর্তার বক্তব্য নেয়া যায়নি।
এ বিষয়ে বান্দরবান বন কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসকসহ নীতি নির্ধারনী মহলের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।