
মুহাম্মদ কামরুজ্জামান, লামা (বান্দরবান):
সারা দেশের ন্যায় লামা উপজেলায়ও আজ রবিবার (২৮ জুন) শুরু হয়েছে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন-২০২৬। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত একযোগে পরিচালিত এ কর্মসূচির আওতায় ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। সকালে ডাঃ গোলাম মোস্তফা নাদিম দুই শিশুকে ভিটামিন খাইয়ে এর উদ্বোধন করেন।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং ইউনিসেফের সহযোগিতায় পরিচালিত এই ক্যাম্পেইনে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুদের নীল রঙের একটি ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের উচ্চমাত্রার লাল রঙের একটি ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।
কর্মসূচি বাস্তবায়নে লামা উপজেলায় ১৪৪টি কেন্দ্রে ৪৫ জন স্বাস্থ্যসহকারী, প:প: সহকারী ৯ জন, স্বাস্থ্য পরিদর্শক ৩ জন, ১৪৪ জন স্বেচ্ছাসেবক, নিয়োজিত রয়েছেন। এছাড়া এনজিও সংস্থা ব্র্যাক ও পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড এই প্রোগ্রামে সহযোগিতা করছেন।
লামা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: গোলাম মোস্তফা নাদিম জানান, নির্ধারিত দিনে কোনো শিশু ক্যাপসুল গ্রহণ করতে না পারলে পরদিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে তা গ্রহণ করানো যাবে। এছাড়া উপজেলার দূর্গম গ্রামগুলোতে আরও চার দিন বিশেষ কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিকটস্থ কেন্দ্রে শিশুদের নিয়ে এসে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর জন্য অভিভাবকদেরকে আহ্বান জানিয়েছেন তিঁনি।
উল্লেখ্য, দেশে শিশুদের অন্ধত্ব ও পুষ্টিহীনতা প্রতিরোধে ১৯৭৩ সালে ‘জাতীয় রাতকানা রোগ প্রতিরোধ কর্মসূচি’র মাধ্যমে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল বিতরণ শুরু হয়। ১৯৯৫ সালে এটি জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত করা হয়। পরে ২০০৩ সালে ‘জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন’ নামে পৃথক কর্মসূচি হিসেবে চালু করা হয়। ২০১১ সাল থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় পুষ্টিসেবা (এনএনএস) অপারেশন প্ল্যানের অধীনে ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত কার্যক্রমটি পরিচালিত হয়। পরবর্তীতে তা বন্ধ থাকলেও ২০২৬ সালে পুনরায় চালু করা হয়েছে। বর্তমানে জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান এই ক্যাম্পেইন বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করছেন।
আপনার মতামত লিখুন :