বিপ্লব যাতে বেহাত না হয়


admin প্রকাশের সময় : নভেম্বর ৩০, ২০২৪, ১২:০৫ অপরাহ্ন /
বিপ্লব যাতে বেহাত না হয়
প্রিন্ট করুন

 

মোঃ রফিক: সদ্য বিদায়ী স্বৈরাচার খুনি হাসিনা সরকার দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে বাংলার মানুষের উপর জগদ্দল পাথরের মতো চেপে বসেছিল স্বৈরাচারী খুনি হাসিনা সরকার। সীমাহীন অন্যায়, অপকর্ম, জুলুম, নির্যাতন, গুম, খুনের মাধ্যমে দেশের জনগণকে শোষণ করে আসছিল এই সরকার। অবশেষে, বাংলার মুক্তিকামী জনতার তীব্র আন্দোলন এবং জুলাই মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের ফলে হাজারো ভাইয়ের জীবন আত্মত্যাগের বিনিময়ে এই দুঃশাসনের অবসান ঘটে। জনতার আঘাতে বাধ্য হয়ে দেশ ছেড়ে পালাতে হয় খুনি শেখ হাসিনা ও তার দোসরদের।তবে দীর্ঘ ১৬ বছরের শাসনে তারা দেশকে সীমাহীন ক্ষতির মুখে ফেলে দেয়। একদিকে তারা হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করে নিজেদের সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছে, অন্যদিকে দেশের অর্থনীতি, প্রশাসন এবং সমাজ ব্যবস্থায় অগণিত ক্ষতি করেছে। আজ, সদ্য বিদায়ী এই সরকার তাদের অবৈধ অর্থ ও প্রভাব কাজে লাগিয়ে সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগানো, এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতার মাধ্যমে রাষ্ট্র সংস্কার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার চক্রান্তে লিপ্ত।অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এখন রাষ্ট্রকে গণমানুষের কল্যাণে উপযোগী করে তোলার মহৎ উদ্যোগে এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে সাফল্য অর্জন যেন কিছুতেই সম্ভব না হয়, সেই লক্ষ্যেই এই পরাজিত শক্তি নতুন নতুন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। ইতিমধ্যে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বড় বড় সহিংসতার জন্ম হতে দেখেছি আমরা। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টি করে তারা আমাদের ঐক্য বিনষ্ট করতে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আমাদের সাম্প্রদায়িক উগ্র জাতি হিসেবে চিত্রিত করতে চাইছে।আমাদের করণীয়এখন আমাদের সামনে প্রশ্ন—আমরা কি আবেগে তাদের ফাঁদে পা দেব, নাকি দেশের কল্যাণে কৌশলী ও কার্যকর সিদ্ধান্ত নেব? মনে রাখতে হবে, সুযোগ সন্ধানীরা উৎপেতে বসে আছে। সামান্য অসতর্কতা পুরো জাতিকে শত বছর পিছিয়ে দিতে পারে। বিপ্লবের সরকার ব্যর্থ হলে দেশের জন্য এর খেসারত হবে ভয়াবহ।তাই, আমাদের একতাবদ্ধ থাকতে হবে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়িয়ে যেতে হবে। দেশকে ধর্মের নামে হানাহানি থেকে রক্ষা করে শান্তি, শৃঙ্খলা, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় রাখা আমাদের প্রধান লক্ষ্য।দেশ ও জাতির কল্যাণে বুদ্ধিদীপ্ত, কৌশলী, এবং ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্ত গ্রহণই এখন সময়ের দাবি।জয় হোক মানবতার, জয় হোক সম্প্রীতির।