
উন্নয়ন সাংবাদিকতার পথ পরিক্রমায় দ্বিতীয় বসন্তে ‘লামার আলো’। আমরা সবাই চাই একটি উন্নত, সমৃদ্ধ সমাজ গড়ে উঠুক। যার মধ্যদিয়ে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠিত হবে।
বাসস্থান, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, যোগাযোগ, তথ্য প্রযুক্তি আর কৃষি উন্নয়নে আমাদের অনেক অগ্রগতি হয়েছে।
এছাড়াও আরো অনেক সম্ভাবনার পথ প্রসারমান। এখনকার প্রজন্মের কাছে প্রযুক্তি, আধুনিকতা, কর্মসংস্থান, ভালো বেতন- এসব উন্নয়নের কথাই বেশি প্রাধান্য পায়। এটাও বর্তমান সরকার স্মার্ট বাংলাদেশ বাস্তবায়নের মাধ্যমে পূর্নতা আনার ঘোষণা দিয়ে চেষ্টা করছেন।
সত্যিকারের উন্নয়ন বলতে বোঝাবে মানুষের উন্নয়ন, জীবনযাত্রার মানের পরিবর্তনের বিষয়টি। আর এ কাজটি ত্বরান্বিত করতে সমাজের দর্পন, গণমাধ্যমের ভূমিকা অপরিসীম। গণমাধ্যম নামক এই স্তম্ভটির কাজের পরিসর বিশাল বিস্তৃত। এরই সুত্র ধরে বলতে হয় মানবকল্যাণের পেছনে সাংবাদিকতার গুরুত্ব’ও অনেক বেশি। তাই উন্নয়ন সাংবাদিকতার ধরণ-ধারণ, পটপরিবর্তন উন্নত সমাজের দিকে ঝুঁকেছে। এখন সময় উন্নয়ন সাংবাদিকতাকে মূল্যায়ন করার। জাতীয় উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হিসেবে এই মহান পেশাটিকে ভালো করে গুরুত্ব দেয়া দরকার আমাদেরকে।
সাংবাদিকতার মাধ্যমে অনালোকিত অনেক কিছুই হয়েছে আলোকিত। তবে, বলতেই হচ্ছে, উন্নয়ন সাংবাদিকতার নতুন ধারণাগুলো এখনো নতুন প্রজন্মের কাছে সন্নিবেশিত হয়নি। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে আমাদের ‘লামার আলো’ এই জনপদে শুরু থেকে উন্নয়ন সাংবাদিকতার ব্রত ধারণ করে কাজ করে আসার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ১০ মার্চ বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠান করেছি আমরা, এতে যে ভালো কিছু করে ফেলেছি তাও না। তার পরও ‘গৎবাঁধা’ গন্ডি অতিক্রম
করতে পারি নাই। সমাজে চুরি ডাকাতি, গাছকাটা, পাহাড় কাটা, মৃত্যু, দূর্ণীতি দুর্যোগের খবর পরিবেশন করে সমাজের উন্নয়ন সম্ভব নয়। আবার এসব যে সংবাদ নয়, তাও কিন্ত নয়। আমরা বলতে চাই সমাজকে উন্নয়নমুখী করতে বা অর্থনৈতিক উন্নয়নে উৎসাহ দান করতে পিছিয়ে থাকা সমাজের মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। উন্নয়ন সাংবাদিকতার বিস্তার ঘটাতে পারলে সমাজের সর্ব সেক্টরে উন্নয়ন বিস্তার লাভ করবে। বর্তমানে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনের সময়। ভাবতে হবে একটু অগ্রগামী হয়েই।
বর্তমানের ‘উন্নয়ন সাংবাদিককে হতে হবে একজন সচেতন সমাজ উদ্যেক্তা। যার চোখে ধরা পড়তে হবে সমাজের প্রতিটি স্তরের ফাঁকগুলো। অনুসন্ধানী চোখে সে সমাজকে সহযোগিতা করবে, যাতে নীতিনির্ধারণী মহলে প্রভাব পড়ে এবং সরকার জরুরি পদক্ষেপ নিয়ে সমস্যাগুলোর দ্রুত নিরসন করেন। আর সেভাবেই তো সূচিত হয় মানব উন্নয়ন।
উন্নয়ন সাংবাদিকতার মাধ্যমে সমষ্টির কল্যাণ নিশ্চিত হতে হবে। তাতে সমাজের অগ্রগতি সাধিত হতে হবে। আর এ অবদানগুলোর ফলেই সমাজ এগিয়ে যাবে। বর্তমান সময়ে যা অনেকটাই সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তবে এখনো অনেক কাজ বাকি। একজন সাংবাদিকের লেখায় আত্মকর্মসংস্থান, আত্মোন্নয়নের গল্পতে থাকতে হবে, অন্য আরেকজন অনুপ্রাণিত হওয়ার প্রেরণা ও নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি হওয়ার দিক দর্শন। রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের সুস্পষ্টভাবে বোঝাতে হবে উন্নয়নের আওতায় অবকাঠামোগত উন্নয়ন’ও রয়েছে।
আমরা পার্বত্য জনপদের কথা যদি বলি, তা হলে ফিরে যেতে হবে দু’ থেকে আড়াই দশক আগে। একদা পাহাড়ি বাঙ্গালী কৃষক, জুমিয়ারা ফসল উৎপাদন করে একটি ব্রিজ বা রাস্তার অভাবে প্রকৃত মুল্য না পেয়ে কৃষকের কষ্টের অন্ত ছিলনা। বর্তমান সরকার ও সরকারের আস্থাভাজন নেতা পার্বত্য বীরের দূরদর্শী উন্নয়ন চিন্তার ফসল, আজকে উঁচু পাহাড়ের উপর দিয়ে শত কিলো সড়ক, নদী খাল ছড়ার উপর দিয়ে শত ব্রিজ কালভার্ট। পাহাড়ি গ্রামগুলোতে বিদ্যুতের আলো সড়ক যোগাযোগ থাকায় একজন মুমুর্ষূ রোগীকে যেমন দ্রুত চিকিৎসাসেবা দেওয়া যাচ্ছে, তেমনি নিশ্চিত করা যাচ্ছে কৃষক, জুমিয়াদের বাজার ও ন্যয্য মুল্য। ভালো যোগাযোগ ব্যবস্থায় পাল্টে যাবে অনেক কিছু- এ বিষয়টি তুলে ধরাও উন্নয়ন সাংবাদিকতার বিরাট অংশ। এটাই আমাদের কাছে উন্নয়ন সাংবাদিকতার নতুন সংজ্ঞা এবং নিশ্চিতভাবেই তা ফল প্রসূ। আমাদের এই বঙ্গের পার্বত্য জনপদে ছড়িয়ে আছে উন্নয়নের অনেক গল্প। এখানে বসবাসকারীদের বড় একটি অংশ হচ্ছে স্বল্পশিক্ষিত বা নিরক্ষর। এরা বহুলাংশে নিজেদের ন্যায্য প্রাপ্য, সুযোগ-সুবিধা বঞ্চিত। এরাইতো এই সমাজের শক্তিশালী অর্থনৈতি গড়ার কারিগর। এদের সন্তানদেরকে শিক্ষিত, উচ্চ শিক্ষিত করে তোলার লক্ষেই এই জনপদে স্কুল, কলেজ, ইউনিভার্সিটি করা হয়েছে। পর্বতের জনগনকে দক্ষ জনশক্তিতে রপান্তর করতে করা হয়েছে কারিগরী স্কুল এন্ড কলেজ ।
উন্নয়ন সাংবাদিককে এ সব ক্ষেত্রে একজন কার্যকর ‘উজ্জীবক’ হিসেবেও কাজ করে যেতে হবে। সমাজ পরিবর্তনের একজন গুরুত্বপূর্ণ রুপকার হিসেবে এগিয়ে আসতে হবে নিজ দায়িত্বে। পর্বতের মূল রস যেখানে, সেই পাহাড় ও পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর কাছেই ফিরে যেতে হবে। সেই প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কথাই ভাবতে হবে; সেখানেই তো সকল অনুপ্রেরণা আর সাফল্য লুকিয়ে আছে।
সুতরাং একজন সংবাদ কর্মিকে ‘গৎবাঁধা’ নিয়মের উর্ধ্বে উঠে কাজ করতে হবে। উন্নয়ন সাংবাদিক হিসেবে হতে হবে একজন খাঁটি দেশপ্রেমিক সরব উৎফল্ল। হতে হবে নিজের কাজের প্রতি অপরিসীম আত্মবিশ্বাসী, সৎ, আত্মপ্রত্যয়ী ও সাহসী। মানুষের কল্যাণে, দেশের স্বার্থে সাংবাদিকতায় হতে হবে নিবেদিত প্রাণ।
আপনার মতামত লিখুন :