
লামার আলো ডেস্ক:-
বিয়ে মানে শুধু দুটি মানুষের মিলন নয়, বরং দুটি পরিবারের মধ্যে সেতু বন্ধন তৈরী করে। সামর্থের সীমাবদ্ধতা কিংবা অপারগতা অনেক সময় এর অন্তরায় হয়। এমন কঠিন বাস্তবতায় একটি স্বর্গীয় সেতু বন্ধন তৈরি করে দিতে এগিয়ে আসার অনন্য মানবিকতার উৎকর্ষ সাধনা কেবল বঙ্গের সৈন্য সেনাদের পক্ষে সম্ভব। পার্বত্য জনপদে জনগোষ্ঠীর সার্বিক কল্যাণে অর্ধশত বছরের ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা দেখা হচ্ছে এই পাখি আক্তারের বিবাহকে।
আলীকদম (বান্দরবান) উপজেলার ২ নং চৈক্ষ্যং ইউনিয়ন ২ন ওয়ার্ডের বাসিন্দা বিধবা রোকেয়া বেগম। কন্যা দায়গ্রস্ত এই ‘মা’ পেশায় দিন মজুর।
সংসার চলে অর্ধাহারে কখনো কখনো অনাহারে। এর মধ্যে বড় মেয়ের বিবাহ হয়েছে আরো আগে। দুই ছেলে বিয়ে করে পৃথক সংসার করছে। তারা বিধবা মা ও উপযুক্ত ছোট বোন পাখি আক্তারেন খোঁজ নেয় না। বিধবা রোকেয়া বেগম অর্থাভাবে ছোট মেয়েটিকে বিবাহ দিতে পারছিলো না।
এটি নজরে আসে আলীকদম জোন কমান্ডার লেঃ কর্নেল মোঃ সাব্বির হাসান পিএসসি (৩১ বীর অধিনায়ক) এর।
এরই মধ্যে জীবনযুদ্ধে ক্লান্ত বিধবা রোকেয়া বেগমের পাশে দাঁড়ানোর অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন আলীকদম জোন। পাখি আক্তার (১৯) এর বিয়ের যাবতীয় সরঞ্জাম, সাজ গোঁজ, শত জন বৈরাত খাওয়ানোসহ সকল আয়োজন সম্পন্ন করেন সেনা জোন আলীকদম।
“জোনের পক্ষ থেকে জোন কমান্ডার এই বিবাহে কনের জন্য স্বর্ণের কানের দূল এবং প্রয়োজনীয় দৈনন্দিন ব্যাবহারিক দ্রব্যসামগ্রী প্রদান করেন। আলীকদম জোন সূত্রে জানাযায়, এভাবেই সবসময় দু:স্থ অসহায় পরিবারের পাশে রয়েছেন আলীকদম জোন”।
সমাজের সকল স্তরে সকলকে মানবিক হতে হবে। হতে হবে দায়িত্ব কর্তব্য পরায়ন। বিয়ে একটি পবিত্র বন্ধন আর এ পবিত্রতাকে কলংকিত করছে কিছু বিবেকহীন নরপিশাচ। এই লেলিহান অন্ধকার জীবন থেকে মুক্তির জন্য পরিবারের ভূমিকা যেমন অপরিহার্য, তেমনি সমাজের দায়িত্বও অনেক বেশি। তাই বন্ধ হোক যৌতুক প্রথা, প্রতিষ্ঠিত হোক সত্য ও ন্যায় বিচার, জয় হোক ভালবাসার।
আপনার মতামত লিখুন :