
লামার আলো ডেস্ক:-
পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম পাহাড়ি জনপদের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকল্পে কুরুকপাতায় গ্রহণ করা হয়েছে আরেকটি সময়োপযোগী ও জনকল্যাণমুখী উদ্যোগ। আজ আলীকদম উপজেলার কুরুকপাতা বাজারস্থ কুরুকপাতা মৈত্রী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি এবং অস্থায়ী মেডিকেল ক্যাম্প সুশৃঙ্খল, নিরাপদ ও প্রাণবন্ত পরিবেশে পরিচালিত হচ্ছে।
আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সার্বিক তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এ কর্মসূচির আওতায় ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের হাম ও রুবেলা প্রতিরোধে টিকা প্রদান করা হচ্ছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিশুদের সুস্থ, নিরাপদ ও রোগমুক্ত ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে প্রায় ২০০ জন শিশুকে টিকা প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। স্থানীয় অভিভাবকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো আয়োজন প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে।
একইসঙ্গে সাধারণ জনগণের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে পরিচালিত হচ্ছে একটি অস্থায়ী মেডিকেল ক্যাম্প। অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে স্থানীয় নারী, পুরুষ ও প্রবীণদের বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরামর্শ এবং ওষুধ প্রদান করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৩৫ জন রোগী চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেছেন, যা স্থানীয় জনগণের মাঝে স্বস্তি ও সন্তুষ্টির আবহ সৃষ্টি করেছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. মোঃ হাসানের নেতৃত্বে ২ জন চিকিৎসক, ১ জন মেডিকেল সহকারী এবং ৩ জন নার্সের সমন্বয়ে গঠিত একটি দক্ষ মেডিকেল টিম নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন।
দুর্গম এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, প্রয়োজনীয় সমন্বয় সাধন, যাতায়াত সহায়তা এবং স্থানীয় জনগণের পাশে থেকে মানবিক কার্যক্রম পরিচালনায় সেনাবাহিনী নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে আলীকদম জোনের মেন্দনপাড়া আর্মি ক্যাম্পের সেনাসদস্যরা মাঠপর্যায়ে নিবিড়ভাবে নিরাপত্তা সহায়তা প্রদান করছে।
এ প্রসঙ্গে আলীকদম সেনা জোনের জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ আশিকুর রহমান আশিক, এসপিপি, পিএসসি বলেন,
“উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও উপজেলা প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগে দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এ ধরনের জনসেবামূলক কার্যক্রমে সবসময় সহযোগী হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এই সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে, যাতে পাহাড়ে শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের ধারা বজায় থাকে।”
পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের আন্তরিক সহযোগিতা এ কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করেছে, যা বেসামরিক প্রশাসন, স্থানীয় নেতৃত্ব এবং সেনাবাহিনীর সমন্বিত প্রচেষ্টার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া, শিশুদের প্রাণঘাতী রোগ থেকে সুরক্ষা প্রদান এবং সাধারণ জনগণের পাশে দাঁড়ানোর এ মহতী উদ্যোগ স্থানীয় জনগণের মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। জনকল্যাণমুখী ও মানবিক কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতায় ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
।।প্রেস বিজ্ঞপ্তি।।
আপনার মতামত লিখুন :