আলীকদমে কবরস্থান দখল করে ঘর নির্মাণ, বাঁধা দেয়ায় কমিটির বিরুদ্ধে মামলা


admin প্রকাশের সময় : জানুয়ারী ৯, ২০২৪, ৫:০৯ অপরাহ্ন /
আলীকদমে কবরস্থান দখল করে ঘর নির্মাণ, বাঁধা দেয়ায় কমিটির বিরুদ্ধে মামলা
প্রিন্ট করুন

লামার আলো ডেস্ক:-
আলীকদমে কবরস্থান দখল করে ঘর নির্মাণে বাঁধা দেয়ায় মসজিদ-কবর পরিচালনা কমিটির বিরুদ্ধে মামলা করেছে বলে, অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গ্রামবাসীর মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। আলীকদম উপজেলায় চৈক্ষ্যং ইউনিয়নের কাশেম মেম্বার পাড়ার ঘটনা এটি। খোঁজ নিয়ে জানাযায়, ১৯৭২-৭৩ সালে রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক কর্তৃক মসজিদ ও কবরস্থানের জন্য লাগুয়া দুই চৌহদ্দিতে ৫ একর জমি বন্দোবস্তো দেয়া হয়।
এলাকার মুসলিম জনসাধারণের জন্য কবরস্থান হিসেবে রেকর্ড হয়ে সেখানে শতাধিক মুসলমান নরনারীকে সমাধিস্থ করা হয়। সম্প্রতি সেই কবরস্থানটির উত্তরাংশে কয়েকটি পাকা সীমানা পিলার-তারকাটা তুলে ফেলে দেয় জবর দখলকারী একই এলাকার বাসিন্দা নুরুল ইসলাম গং। সম্প্রতি নুরুল ইসলাম তার বসত ঘর থেকে প্রায় দু’শ্ গজ দূরে কবরস্থানের টিলার মাটি কেটে বাঁশ খুঁটি গেড়ে পলিথিন টাঙ্গিয়ে ঘরের অবয়ব নির্মাণ করার পায়তারা করেন। খবর পেয়ে কবরস্থানটি দখলমুক্ত করতে গ্রামের পক্ষে সমাজ ও মসজিদ পরিচলনা কমিটির লোকেরা নুরুল ইসলাম গংকে বাঁধা দেয়। কিন্তু নুরুল ইসলাম সমাজের বাঁধা উপেক্ষা করে কয়েকজন মহিলা লেলিয়ে দিয়ে কবরস্থানের টিলার ঢালু কেটে জোরপূর্বক বাঁশ পলিথিন টাঙ্গিয়ে দেয়। এ নিয়ে চৈক্ষ্যং ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃক তর্কিত ভূমির সীমানা বিরোধ মিমাংসাকল্পে স্থানীয়ভাবে পরিমাপ করে দু’পক্ষকে পূর্বের সীমানা পিলার ঠিক রেখে স্বস্ব অবন্থান থাকতে বলা হয়। কিন্তু নুরুল ইসলাম পুনরায় কবরস্থানের উপর কার্যক্রম চালানোর পায়তারা করতে থাকলে, সমাজের লোকেরা বাঁধা দেয়। এর ফলে ক্ষিপ্ত হয়ে কবর জবর দখলকারী নুরুল ইসলাম সমাজের লোকদের বিরুদ্ধে আলীকদম থানায় মামলা দায়ের করে। গ্রামের বাসিন্দার জানান, কবরস্থান ও মসজিদের সম্পদ রক্ষায় সমাজ কর্তৃক দায়িত্বপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগটি পুলিশ দ্রুত এন্ট্রি দিয়ে আদালতে পাঠিয়ে দেয়। কাশেম মেম্বারপাড়া গ্রামবাসীরা বলেন, পুলিশের কর্তা ব্যক্তির সাথে মসজিদ পরিচালনা কমিটির এক সদস্যের সাথে অন্য একটি বিষয়ে বাকবিতন্ডা হয়েছিল। এর জের ধরে মূলত: পুলিশ খানিকটা স্ব প্রণোদিত হয়ে ওই ঘটনার সত্যতা দেখিয়ে মামলাটি এন্ট্রি দিয়ে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করে।
কিন্তু অসাধু ভূমিদস্যু কবর জবর দখল করে ঘর নির্মাণের চেষ্টাকারীদের বিরুদ্ধে সমাজের পক্ষে অভিযোগ করা হলেও তা এন্ট্রি দিতে গড়িমসি চলছে থানায়।
মসজিদ ও কবর পরিচালনা কমিটির নেতৃবৃন্দরা এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে মানববন্ধন করবে বলে জানিয়েছেন।
গ্রামবাসীরা জানায়, উক্ত কবরস্থানে নুরুল ইসলামের পরিবারের মৃতদেরকেও দাফন করা হয়। এর পরও সম্প্রতি একটি ভূমিদস্যু চক্রের ইন্ধনে কবরস্থানের জমি দখল করে নামেমাত্র বাঁশ পলিথিন টাঙ্গিয়ে ঘর নির্মাণের দাবি করেন। তাদেরকে একাধিকবার নিষেধ করার পরও কারও কথা শোনেনি।
সর্বশেষ সমাজ কমিটির নেতৃবৃন্দ ও মুসল্লিরা কবরস্থানের জমিতে ঘর নির্মাণের বিষয় জানতে চেয়ে প্রতিবাদ করলে, সমাজের লোকদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। গ্রামবাসীরা দাবি করেছেন, আলীকদম থানা প্রতিটি অভিযোগের পর মামলা এন্ট্রির আগে দু’পক্ষকে নিয়ে বৈঠক করে মিমাংসা করার উদ্যােগ নেয়। কিন্তু কবরস্থান জবর দখলকারীদের করা অভিযোগটি পুলিশ দ্রুত এন্ট্রি দেয়। এ নিয়ে চৈক্ষ্যং ইউপি চেয়ারম্যান এর সাথে কথা হয়। চেয়ারম্যান বলেন, কবরস্থানের জমিতে ঘর নির্মাণ নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে তাদের শান্ত করে বিষয়টি নিয়ে শান্তিপূর্ণ বৈঠকের আহ্বান করা হয়। কবরস্থান দখল করে ঘর নির্মাণ খুবই দুঃখজনক ব্যাপার। বিষয়টি স্থানীয় পরিমাপের মাধ্যমে মিমাংসা করে দেয়া হয়েছে। তার পরও কেনো এত বিরোধ জানিনা।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, “আমাদের কাছে একটি বসত ঘর জোর করে ভেঙ্গে ফেলা ও হামলার অভিযোগ আসে। ঘটনাস্থলে পুলিশ তদন্ত করে মামলা নিয়েছে। এর আগে মীমাংসায় বসার জন্য দু’পক্ষকে অনুরোধ করা হয়েছিল। কবর-মসজিদ পরিচালনা কমিটির মধ্যে বিরোধটির পক্ষে বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে তারাই নুরুল ইসলাম এর মামলাটি করেছে। অন্যদিকে কমিটির একাংশের অভিযোগটিও আমরা পেয়েছি। যার তদন্ত চলছে।”