লামার আলো ডেস্ক:-
লামা উপজেলায় শ্রমিক অসন্তোষ জনরোষে রুপ নিচ্ছে। কর্মসংস্থান বন্ধ হয়ে পড়ার আশঙ্কায় বিক্ষুব্ধ ইটভাটার শ্রমিকরা ফোঁসে উঠেছে।গত ১৬ নভেম্বর পরিবেশ অধিদপ্তর ও প্রশাসনের একটি বিশেষ অভিযানিক দল লামা উপজেলার ফাইতংয়ে ব্রিকফিল্ড উচ্ছেদ করতে গেলে এই পরিস্থিতির অবতারণা ঘটে।
এই অভিযানকে রোজগারের পথে বাঁধা মনে করে হাজারো শ্রমিক অভিযান প্রতিরোধ প্রতিবাদে সরব হয়ে উঠেছে। শ্রমিকদের এই আন্দোলনের উত্তাপ যেনো লামার গোটা সমাজ পরিমন্ডলে ছড়িয়ে পড়েছে।তাদের দাবি একটাই তা হচ্ছে; বিকল্প কর্মসংস্থান না করে তাদের বৃহত 'কর্মসংস্থান ইটভাটা বন্ধ করা যাবে না।' তাদের এ দাবি অত্যান্ত যৌক্তিক ও মানবিক মনে করে জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয়রা সংহতি প্রকাশ করেন।
সময় যত গড়াচ্ছে ততই শ্রমিক আন্দোলনের কলেবর বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই বাস্তবতায় কি করণীয় সে বিষয়ে দায়িত্বশীল কোনো মহল থেকে কোনো কিছু জানাও যাচ্ছে না।দেশ স্বাধীনের পর থেকে বৃহত্তর লামায় শ্রমজীবী মানুষের স্থায়ী কোনো কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় নাই। তার উপর বান্দরবান জেলাটি দেশের সব চেয়ে দরিদ্রতম জেলা। এই জেলার মোট জনসংখ্যা সিংহভাগ বসবাস করেন বৃহত্তর লামায়।
এছাড়া পাহাড়ে আঞ্চলিক সমস্যাও যেন প্রান্তিক জনগোষ্ঠী বরাবরই আধমরা। তার উপর একেক করে জীবিকার্জনের পথরূদ্ধ হয়ে আসছে। সব মিলিয়ে দিন মুজুর মানুষের পীঠ দেয়ালে ঠেকেছে।
এমনিতে কাজের অভাবে শ্রমজীবি মানুষের মধ্যে নীরব দুর্ভিক্ষ চলছে। তার উপর দ্রব্যমূল্যের অস্বাভাবিক উর্ধ্বগতি। এ সময় ইটভাটাও বন্ধ করে দেয়ার অভিযান করছেন পরিবেশ অধিদপ্তর। ফলে দিন মজুর মানুষের অন্তরে হতাশা, ভয়, পরিবার পরিজন নিয়ে খেয়ে বেঁচে থাকার অনিশ্চয়তার দাগ কেটেছে।
এছাড়াও বিগত ৭ মাস ধরে বৃহত্তর লামায় ব্যাক্তি মালিকানা কাঠ পরিবহন বাজারজাত বন্ধ করে রাখা হয়েছে। ফলশ্রুতিতে মানুষের পীঠ দেয়ালে ঠেকেছে।
সুতারাং শ্রমিকদের এই আন্দোলন যেন, দুমুঠো খেয়ে বেঁচে থাকার নিরন্তন প্রচেষ্টা। সরকার
তাদের এ ধাক্কা সমালাতে হবে কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে। সাধারণ মানুষের শুধু ভাত কাপড়, চিকিৎসা, সন্তানদের লেখাপড়ার চাহিদা থাকে এর বেশি কিছু নয়।
এই মুহুর্তে শুধুমাত্র কাজ করে খেয়ে বাঁচার অধিকার নিয়ে আন্দোলনরত শ্রমিকদের সাথে আমরাও সংহতি প্রকাশ করা ছাড়া কিছুই করার নেই।
জাতীয় নির্বচনের ঠিক আগ মুহুর্তে কর্তৃপক্ষগুলোর উচিত আইন শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখা।